Breaking News
Home >> Breaking News >> জ্যোতি বাবু আমাদের “প্রাক্তন”

জ্যোতি বাবু আমাদের “প্রাক্তন”

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃলালদিঘির উত্তর আকাশের নিচে মাথা উঁচিয়ে থাকা লাল বাড়িটিতে এগারো সালে দ্বিতীয় বার পা ফেলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হ্যাঁ দ্বিতীয়বার। প্রথমবার চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়েছিল যে সরকার তার প্রধান ছিলেন জ্যোতি বাবু। আবার ওই বাড়ি থেকে সমগ্র বঙ্গে’র মানুষের হাভাতের কথা ভাবতেন তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয় “জ্যোতি বাবু।”

মৃত্যু’র পর বিধানসভার সামনে মঞ্চ বেঁধে শায়িত রাখা হয়েছিল ওঁনার দেহ। আমরা ক’জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভিড় ঠেলে চোখের দেখা দেখতে গিয়েছিলাম। লাল শালুকের ঝালট দেওয়া রক্তকরবী পতাকা সেদিন টগবগিয়ে উঠেছিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুড়ি-বাতাসা বেঁধে ছুটে এসেছিল বলিষ্ঠ নেতাকে শেষ বারের মতো চোখের দেখা দেখতে।

সেই সময় ঘরে ঘরে তো কেবল লাইন বা এখনের মতো গুচ্ছের নিউজ চ্যানেল ছিল না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের বুক চেপে রাখা কষ্ট সকাল হলেই খবরের কাগজে আসতো না। যে ক’জন রিপোর্টার ছিল সাইকেল চালিয়ে তাদের খবর সংগ্রহ করতে যেতে হতো। তারপর সাদা কাগজে লিখে ফ্যাক্স করে কলকাতার অফিসে পৌঁছাত। মানানসই হলে তবে কাগজের পাতায় নইলে ডাস্টবিন নামক ঠিকানায়। স্পষ্ট কথায় সরকারের মুন্ডুপাত করা চলবে না।

ক্ষমতার উৎস থেকে বাংলায় দীর্ঘ বাম জমানার একমাত্র ব্যক্তিত্ব জ্যোতি বাবু। তখনও রাম ছিলো, হনুমান ছিলো কিন্তু ভগবানকে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে উনি দেননি। সেই সময় বিরোধী আসনে বসা একজন মহিলা লড়াই জারি রেখেছিলেন। লাল বাড়ি অভিযানও করেছিলেন। ফলস্বরূপ কি ঘটেছিলো সে দিন সকলের জানা। তবে লড়াইয়ের বীজ বপন করেছিলেন জ্যোতি বাবুর সময়কার লাল বাড়ির গেট থেকে।

রাজ্যের একজন প্রাজ্ঞ মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘ সময় রাজত্ব করে বাংলার মানুষকে কতটা সুখে রেখেছিলেন? আদৌ কি ঘটা করে নিজের জন্মদিন পালন করতেন? সংস্কৃতি মুখর বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি লাল ফিতের বাইরে রেখেছিলেন? সেক্টর ফাইভ বানিয়েছেন কিন্তু ইংরেজি শিক্ষার জন্য আদৌ কি প্রাণান্ত ছিলেন? ওখানে তো আর বাংলায় কাজ হয় না। সকাল-সন্ধ্যা ও রাতের সিফটে গলায় অফিসের কার্ড ঝোলানো ছেলে মেয়েগুলো কি বাংলা মাধ্যমের?

আপনার জন্মদিনে ভালো কথা লিখতে হবে। আপনি মহান মানুষ ছিলেন। রাজ্য পরিচালনায় দল বা পার্টি কে প্রাধান্য দেননি। গরীব ও বড়লোকদের ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে দেননি। গরীবের ছেলে বাংলা মাধ্যম স্কুলে ইংরেজি পড়বে আপনি তা চেয়েছিলেন। বানিয়ে বানিয়ে এমনটা লিখতে পারলাম না। আপনি যেটা পেরেছেন সেটা আপনার উত্তরসূরি বুদ্ধদেব বাবু পারেননি! উনি দম্ভ ফলিয়ে বলেছিলেন ‘আমরা ২৩৫, ওরা ৩০ কী করবে ওরা’। কিন্তু আপনার সময় এমন বাক্য কোনদিন বঙ্গবাসি শোনেনি।

লোকে বলে আপনার সময় বসিরহাট, হাসনাবাদ, সুন্দরবন হয়ে বাংলাদেশিরা কাতারে কাতারে এই বঙ্গে এসেছে। জমি, বাসস্থান, ঘর, রেশন কার্ড, আধার কার্ড সমস্ত কিছু নিজেদের দখলে করেছে। এখন তাদের মধ্যে অনেকে সরকারি অফিসার। বিতর্কিত এনআরসি আসলে তাদেরকে এ রাজ্য থেকে পাত্তাড়ি গোটাতে হবে। যদিও সমস্তটা এখন আলোচনা আর রাজনৈতিক তাপ উত্তাপে মিশে রয়েছে।

আপনার আমলে বামেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ছিল। রাজত্ব নিয়ে চিন্তার কোন অবকাশ ছিল না। আড়াইশো টাকা বেতনে রাজত্ব সামলে গিয়েছেন। হাতুড়ি কে শক্ত হাতে ধরে দলের রক্ত সঞ্চারিত করেছেন। সাদামাটা জীবনযাপনে ছিলেন অভ্যস্ত। সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন স্বপ্নের মানুষ। তবুও মাঝেমধ্যে ঘটে গিয়েছে আমতার কান্দুয়ার মতো রাজ্যজুড়ে একাধিক রোমহষর্ক ঘটনা। ইতিহাসের পাতা করেছে কলঙ্কিত!

প্রধানমন্ত্রী হবার পরিস্থিতি তৈরি হয়েও শেষ অবধি পলিটব্যুরোর লাল ফিতেয় সম্ভব হয়নি। জনপ্রিয়তায় এতটাই এগিয়ে ছিলেন কিউবায় ফিদেল কাস্ত্রো’র মতো নেতা দেখা করেছিলেন। দেশে ইন্দিরা গান্ধী, গণি খান চৌধুরী কে ছিল না দেখা করবার লিস্টে! মাদার টেরিজার সঙ্গে কলকাতায় এক মঞ্চে উপস্থিত হওয়া। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয় একটু বেশি আগ্রাসী ছিলেন। হয়তো সেদিন বুঝেছিলেন বামেদের ছবিতে শেষ পেরেক মারবার স্পর্ধা দেখাতে পারেন তিনিই।

বিরোধী মমতাকে চুলের মুঠি ধরে লাল বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন জ্যোতি বাবু’র পুলিশ। আবার সাড়ে তিন দশকের আত্মগর্বী বামেদের সরিয়েছেন সেই মমতা। হাতের মুঠো শক্ত করে এগিয়ে চলো কমরেড। লড়াইয়ের কখনও শেষ বলে কিছু হয় না।

এছাড়াও চেক করুন

ভারত জাকাত মাঝির ডাকা পথ অবরোধের জেরে স্তব্ধ ঝাড়গ্রাম

স্টিং নিউজ সার্ভিস, ঝাড়গ্রামঃ ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সাঁওতালি মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষণের ডিএলএড কোর্স চালু ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.