Breaking News
Home >> Breaking News >> বিপন্ন বাঘরোল, আক্রান্ত জলাভূমি কিভাবে রক্ষা আলোচনায় একত্রে গবেষক ও পরিবেশ সংগঠন

বিপন্ন বাঘরোল, আক্রান্ত জলাভূমি কিভাবে রক্ষা আলোচনায় একত্রে গবেষক ও পরিবেশ সংগঠন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া:

বাঘরোল রক্ষা করতে তৈরি করতে হবে অনুকূল পরিবেশ। তারজন্য প্রয়োজন এলাকাবাসীদের সচেতন করা। তাঁদের মাধ্যমে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে প্রচার পাবে। রক্ষা পাবে পরিবেশ। বাঁচবে রাজ্য প্রাণী বাঘরোল। রবিবার বিকালে হাওড়া নারীট ন্যায়রত্ন হাইস্কুলে বাঘরোল সংরক্ষণ নিয়ে এভাবেই একাধিক বিষয় আলোচিত হল।

গ্রামীণ হাওড়ার আমতা ২নং ব্লকের নারীট, জয়পুর সহ একাধিক গ্রামে রাজ্য প্রাণী বাঘরোলের বাসস্থান। মূলত পুকুরের ধারে বনজঙ্গল, বিস্তীর্ণ খড়ি বন এছাড়া হোগলা বন থাকায় বাঘরোল মোটের উপর টিকে রয়েছে। কিন্তু মানুষের জীবনের চিত্রপট পরিবর্তনের মাঝে বাঘরোলের বাসস্থান ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আর তা হচ্ছে একশ্রেণীর গ্রাম্য মানুষের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য। ঝোপঝাড়, বনজঙ্গল তুলে দেওয়া, পুকুরের পাড় সিমেন্টের নির্মান। সমস্যায় পড়েছে বাঘরোল।

হাওড়া জেলার একপ্রান্তে কুশবেড়িয়া, তাজপুর, নারীট এলাকায় বছরের পর বছর বাঘরোল নিয়ে কাজ করে আসছে তিয়াসা আঢ্য। এছাড়া সারদা প্রসাদ তীর্থ জন কল্যাণ সমিতি এবং ফিশিং ক্যাট প্রোটেকশন কমিটি আমতা। এলাকার মানুষের সঙ্গে বাঘরোলের পরিচয় ঘটানো ছিল প্রথম কাজ। পাশাপাশি বাঘরোলের স্বভাব ও চারিত্রিক গুণাবলি গ্রামবাসীদের মধ্যে তুলে ধরাটা ছিল সবথেকে জরুরি। ওই সমস্ত এলাকায় রাজ্য প্রাণী বাঘরোলের পায়ের ছাপ তুলে ও ক্যামেরা বসিয়ে ছবি তুলে তা দেখানো হয়। শুরু হয় বাঘরোল বাঁচানোর লড়াই। বানানো হয় একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র। কোনপ্রকার বনাঞ্চলে ও কি খেয়ে এবং কতটা শান্তপ্রকৃতির প্রাণী তা বোঝাবার চেষ্টা করা হয়। এর আগে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়। রবিবার সন্ধ্যায় সেটি প্রচারের মাঝে পুনরায় গ্রামবাসীদের মাঝে দেখানো হয়।

বাঘরোল নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক সংস্থা স্মল ওয়াল্ড ক্যাট কনসারভেশন প্রোজেক্ট-এর সদস্য এবং সদ্য রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার প্রাপ্ত তিয়াসা আঢ্য জানান, মানুষকে বাঘরোলের বিষয় ভালোভাবে বোঝাতে আমরা একটা ছোট তথ্যচিত্র বানাই। সচেতন করবার পাশাপাশি বাঘরোলের বাসস্থান রক্ষার কথাও শোনাই। জয়পুর, নারীট, তাজপুর, কুশবেড়িয়া সহ আশপাশের এলাকায় খড়ি বন ও হোগলা বন থাকায় একসময় বাঘরোল সুখে শান্তিতে বসবাস করতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ খড়ি বন কেটে ফেলছে। এই সময় প্রায় ৪৪ শতাংশ বাঘরোলের বাসস্থান কেটে সাফ করে ফেলা হয়েছে। আর তা হয়েছে কলকারখানা বা নিজ ব্যবহারকৃত জমিতে পরিণত করবার উদ্দেশ্যে। ফলে বাঘরোল মহা সমস্যার সম্মুখীন। ওদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে এলাকাবাসী এবং প্রশাসনের কর্তাদের।

তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গুলাম খান জানান, দশ বছর আগে আমরা জানতাম না বাঘরোল নামে কোন প্রাণী আছে। তিয়াসার মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। এরপর আমরা গ্রামের মানুষকে নিয়ে আলোচনা করি। যাতে করে কেউ মেরে না ফেলে। ওকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি ওর বাসস্থান ক্ষেত্র (খড়ি বন) কেটে ফেললে হবে না। জেলা পরিষদ নেতা রমেশচন্দ্র পাল জানান, বাঘরোলের বিষয় আমতা গ্রামীণ এলাকায় প্রথম পরিচিতি ঘটায় তিয়াসা আঢ্য। ওরজন্য রাজ্য প্রাণী আমাদের এলাকায় টিকে রয়েছে। আমরা প্রত্যেকে বাঘরোল কে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ লড়াই চালাবো। কিন্তু ওদের বাসস্থান যদি টিকে না থাকে তাহলে তো মানুষের ঘরের কাছে চলে যাবে। সেক্ষেত্রে প্রাণ ঘাতের ব্যপার এসে যায়।

এলাকার মাছচাষী ও কৃষকদের কথায়, পুকুরে চাষ করা অ্যামেরিকান মাছ, কাতলা এবং গ্যাসকাপ মাছকে বাঘরোল খেয়ে নেয়। এতে করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকদের কথায়, এক বিঘা প্রতি জমিতে ১৮-২০ মন ধান হয়। বছরে দু’বার ধান ও একবার রবিশস্য চাষ হয়। হোগলা চাষে বছরে দশ হাজার টাকা আসে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। মাছচাষীদের যদি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতো তাহলে সুবিধা হতো।

এ বিষয় তিয়াসা জানান, বাঘরোলের মূল খাদ্য মাছ। তাতে মানুষের কিছু ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু একটি বাঘরোল বছরে প্রায় তিনশো থেকে সাতশো মেঠো ইদুর খায়। পুনে থেকে আগত প্রাণীবিদ্যার ছাত্র সৌম্য ব্যানার্জি জানিয়েছে সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই এলাকার মাংসাশী প্রাণীদের বিষ্ঠায় শূয়রের লোম আছে। এই গবেষণা জুওলজি সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কলকাতায় হয়েছে। শূয়র ও ইদুর চাষের ক্ষেত্রে বড় ক্ষতি করে। বাঘরোলের জন্য কৃষকের ফসল বেঁচে যাচ্ছে। তবুও মাছচাষীদের জন্য সারদা প্রসাদ তীর্থ জনকল্যাণ সমিতি একটি অভিনব প্রদক্ষেপ নিয়েছে। আমতা ২ নং ব্লকের ৪০জন মাছচাষীদের ১৫০০টাকার ১০কেজি মাছের চারা দেওয়া হবে। বলা হবে পরের বছর ১৫০০টাকা ফেরত দেবেন যাতে আবার ওই টাকার মাছের চারা দেওয়া যায়। এইভাবে প্রকল্পটি চলবে বাঘরোল সংরক্ষণের জন্য। ওই সংস্থাটির পাশে যদি সরকারি সংস্থা যেমন পঞ্চায়েত সমিতি বা ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিস তাহলে মনে হয় কিছুটা সুরাহা হবে। কোনভাবে বাঘরোল কে তার বাসস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া কার্যকারী নয়। খড়ি বন ও হোগলা বোন কেটে ফেলা রুখতে প্রশাসনের নজর দিতে হবে। এছাড়া বন্যপ্রাণী হত্যা রুখতে কঠোর হয়েছে আইন। তিন থেকে সাত বছরের জেল। সঙ্গে জরিমানা।

আমতা গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশ সচেতনতা ও বাঘরোল নিয়ে মঙ্গল দীপ শিশুকল্যাণ সমিতি দীর্ঘ দশ বছর ধরে কাজ করছে। সম্পাদক তথা পরিবেশবিদ প্রদীপ রঞ্জন রীত জানান, বাঘরোল রক্ষায় আমরা বেশকিছু স্কুলে প্রচার করেছি। ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। যাতে করে রাজ্য প্রাণী কে রক্ষা করা যায়। বাঘরোল মানুষের ক্ষতি করা তো দূর মানুষকে দেখলেই পালায়। তবুও এর আগে অজ্ঞতার কারণে মেরে ফেলা হয়েছে। এখন অনেকটাই প্রচারে মানুষ বাঘরোল বিষয় পরিচিত হয়েছে। ওদের জীবন অনেকটাই রোখা গেছে।

এছাড়াও চেক করুন

২১ শে জুলাই এর সমর্থনে মিছিল করলেন দেব

কার্তিক গুহ, স্টিং নিউজ, পশ্চিম মেদিনীপুর: ২১ শে জুলাই তৃনমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসকে সামনে রেখে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.