Breaking News
Home >> Breaking News >> আন্দোলনের মোহভঙ্গ!

আন্দোলনের মোহভঙ্গ!

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক বলেছিল সবাই। অনেক মারের জবাব দেবার পালাটাও ছিল জমে। এইমস-এর জুনিয়ররাও সাহস জুগিয়েছিল। হয়তো ওঁরাও খেয়েছিল কোনদিন গোটা কয়েক ‘ঘা’। তবুও গত মঙ্গলবার থেকে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের ইতি পড়লো সোমবার।

রোগী ও জুনিয়র ডাক্তারদের কয়েকটি দিনের টানাপোড়েন মিটল। আরও এক আন্দোলন ফুলস্টপ টানা হলো। ওঁরা যে জুনিয়র সেটা মাননীয়া আগেই হয়তো বুঝে গিয়েছিলেন। দূরে থেকেও কাছে টেনে নিয়েছেন। দিদি কি ভাইদের কষ্ট দিতে পারে। একবার বকা দিলেও বাকি সময় ‘ভাই আমার ভাই’।

দেশের তাবড়-তাবড় মিডিয়া পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। এটা কিন্তু ভালো লক্ষ্মণ। বাংলা আন্দোলনের পথ দেখায়। সে সিঙ্গুর হোক বা নন্দীগ্রাম, পার্কস্ট্রিট হোক বা কামদুনি। বামেরা নবান্ন আন্দোলন করে ব্যাগে ইট ভরে! আর নেতারা নবান্নে গেলে ফিসফ্রাই মেলে। এক্ষেত্রেও জুনিয়রদের সরকারি বাসে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হল। সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বাকিটা রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা! না না হাসি ফুটলো কিন্তু এ হাসি মাথা নোয়ানো!

গ্রাম্য মহিলারা বলেছিল তোমাদের আন্দোলন তোমরা কর। তবে আউটডোর ও লেবার রুম যেন খুলে রাখা হয়। মফস্বলের হাসপাতালে ওই দুটিরই চাহিদা বেশি। পেটের নাড়িটা তো আর দাইমা দিয়ে কাটানো যায় না। আপনাদের উপর ওঁদের ভরসা। আন্দোলন শেষ হলেও হার জিত এর লড়াই টা ক’দিন চলতে থাকবে। তবুও আপনাদের শুভবোধটিই গ্রামের শিশুগুলোর মৃত্যু আটকালো।

আন্দোলনের প্রথম ঝড়টা বলে দিয়েছিল আপনারা জুনিয়র কিন্তু নন। কথাগুলো নেতাদের মতো বলছিলেন। চেটেপুটে নিতে চাইলেন আন্দোলনের রস। কিন্তু লেবু কচলালে বাকিটা কি হয় নিশ্চয়ই জানা। আপনারাও সেটাই করলেন। শেষ পর্যন্ত আন্না বাবুর মতো লেবুর রস দেবার সেটিং লোক ডাকা হল। তাহলে এতদিন আন্দোলন চালাবার প্রয়োজন কি ছিল! সম্মানের সঙ্গে যে লড়াইটা শুরু করলেন কতটা উল্লেখযোগ্য হল! হ্যাঁ এমনি সবাই বলতে শুরু করেছে।

রাজ্য ফিরে পেল ফিকে হয়ে যাওয়া সম্মান। দেশের মানুষ জানলো আপনাদের ‘ঔদ্ধত্য’ এর ইতিহাস। একটা হাসপাতালের গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন তালা দিয়ে। এ দিন সেটা ভেঙে প্রবেশ করলেন। আনন্দের রেশ মিলিয়ে যাবার আগেও সমস্তটা দেখাল সেই মিডিয়া। হ্যাঁ আপনাদের চোখে ওরাই তো দোষ করেছে আপনাদের কথা তুলে ধরে।

মিডিয়া ছিল বলে আন্দোলন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছাতে পেরেছে। আপনাদের সমস্তটা যে সঠিক ছিল না সেটাও কমবেশি বুঝতে পারছিল। এটা মিডিয়া তুলে ধরতেই ব্যাস আপনারা আর যান কোথায়। মনে রাখবেন হাসপাতালে যায় রোগী বাঁচতে। তবুও মরতে হয় চিকিৎসার ঘেরাটোপে থেকেই। সবাই ভালো শুধু দোষ ওই মানুষগুলোর। হাটেবাজারে, গ্রামেগঞ্জে বাস করা প্রেসক্রিপশন না পড়তে পারা মানুষগুলো।

মৃত্যুর পরে দেহগুলো গ্রামে ফেরে ম্যাটাডোর ভাড়া করে। সেটার টাকা জোগাতে একফালি জমি বন্ধক রাখতে হয়। তাদের প্রশ্ন আঁচল যদি মাথায় নেবার ছিল তাহলে এত ঘোমটা নাড়াবার কি দরকার ছিল! শিশুগুলো মারা গেল কি অপরাধ ছিল তাদের। তখন মনে পরেনি বোধহয়! কোল্ড কফিতে চুমুক দেওয়া ঝড় নিমিয়ে গেল রহস্যের আড়ালে।

তবুও মন্দের ভালো হল। সমস্ত আবদার ও অভিমানের শেষ হলো আপন দিদির সামনে। সকাল থেকে শুরু আউটডোরের সামনে লম্বা লাইন। ডাক্তার দেখিয়ে শুকনো মুড়ি চিবিয়ে বাড়ি ফিরবে দেহাতি গ্রাম্য মানুষগুলো। আপনারা মশগুল হবেন ক’দিন প্রকাশিত হওয়া আপনাদের ছবি দেখতে!

এছাড়াও চেক করুন

হিংস্র প্রাণী না থাকায় সার্কাসে দর্শক বিমুখ, গ্রামীণ মেলায় উপচে পড়ছে ভিড়

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়াঃ ডিসেম্বর মাস আসলেই গ্রাম বাংলায় সার্কাসের তাঁবু বসতো। বাঘ-সিংহ, বিদেশি …

Leave a Reply

Your email address will not be published.