Breaking News
Home >> Breaking News >> আঘাত পেলে প্রতিবাদ করুণ,  গ্রামের মানুষ চায় আউটডোর ও লেবার রুম খোলা থাকুক

আঘাত পেলে প্রতিবাদ করুণ,  গ্রামের মানুষ চায় আউটডোর ও লেবার রুম খোলা থাকুক

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: “আমরা কাজে ফিরতে চাই, কিন্তু আপনার বার্তা কই” এমন কথাগুলো বলা মুখগুলো সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে সকলের পরিচিত। কেউ সামান্য জ্বর নিয়ে কারও আবার কঠিন রোগ। এমন হাজারও সমস্যা ওঁদের প্রেসক্রিপশনে সুস্থতা ফিরে পায়। এখন ওরাই সমস্যায়। মেটাবে কে ? পেশার থেকে নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে যে কারণে বেশি চিন্তিত। কোমড় বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছে জুনিয়র ডাক্তাররা। যার জেরে রোগী দেখা শিকেয় উঠেছে। আর এ কারণে নীরবে চোখের জল ফেলছে চিকিৎসা না পাওয়া রোগীদের পরিবার।

নীলরতন সরকার হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তার নিগ্রহকাণ্ডে সরব হয়েছেন চিকিৎসক মহল। যার ঢেউ পাশের জেলা হাওড়াতেও গড়িয়েছে। পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জুনিয়র ডাক্তাররা। তবে তা কখনওই সেবা বন্ধ করে নয়। এমনটা শুনে সাধারণ মানুষ অনেকতাই আশ্বস্ত। রণদেব সাঁতরা মা’র চিকিৎসা নিয়ে দীর্ঘদিন হাওড়া জেলা হাসপাতালে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনিও চিন্তিত। যদি আউটডোর বন্ধ হয়ে যায় কিভাবে দেখাবেন ! কিন্তু হাওড়া হাসপাতালের সমস্ত বিভাগ চালু থাকায় রণদেব বাবুর মতো শ্যামপুর থেকে আসা বানি হালদারও খুশি। হাওড়া হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি জানান, টিভি তে দেখাচ্ছে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের কথা। আমরা গ্রামের মানুষ অতশত বুঝি না। শুধু এটুকু বুঝি কিছু হলে হাসপাতালে যেতে হবে। আউটডোরে লম্বা লাইন দিতে হয়। তারপর মেলে চিকিৎসা।

গ্রামীণ এলাকায় একাধিক হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয় উলুবেড়িয়া হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। গড়চুমুক থেকে এসেছেন সামিনা বিবি। ছ’বছরের সন্তানের সর্দির টান নিয়ে এসেছেন উলুবেড়িয়া হাসপাতালে। ডাক্তার দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে হোটেলে মাছ-ভাত খেয়ে অটো ধরবার জন্য স্টেশন রোডে দাঁড়িয়ে। ওনার কথায়, আমাদের পরিবারের লোকজন কলকাতার হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে এসেছে। বাধ্য হয়ে এখানে দেখাচ্ছি। উলুবেড়িয়া হাসপাতাল এলাকায় একাধিক নার্সিংহোম। চলছে রমরমিয়ে। এখানকার এক চিকিৎসা কর্মীর কথায়, শহরের ঝামেলা এখানে চাপ বাড়িয়েছে। অনেক রোগী হাসপাতাল থেকে অন্যত্র যেতে ভয় পাচ্ছে। পাছে ভর্তি না হতে পারে এ কারণে নার্সিংহোমে চলে আসছেন।

এই সুযোগে নার্সিংহোমের যে পোয়া বারো তা দোরগোড়ায় পৌঁছে বোঝা গেল। স্বপন বাউরি এসেছেন পার বাকসি থেকে। স্ত্রীর পেটে সেলাই এর জায়গায় মাঝেমধ্যে যন্ত্রণা হচ্ছে। দেখিয়েছেন হাসপাতালে। তবে মনের খুঁতখুঁতানি যায় নি। চলে এসেছেন চারতলার নার্সিংহোমে দেখাতে। এখানের গাইনির ডাক্তারের লম্বা লাইন। সেখানেই জানান, ডাক্তারদের সমস্যা হচ্ছে এটা জেনেও চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত টা সঠিক না। সাধারণের কথাটা বোঝা দরকার। রক্ত পরীক্ষা করা, ইসিজি সহ একাধিক কাজে পারদর্শী পার্থ সাধুখাঁ’র কথায়, সাধারণ মানুষের বোঝা উচিৎ ডাক্তারদের ভূমিকার কথা। তাদের জন্য মানুষের জীবন ফিরে পায়। আবার তাদের উপর হামলা করাটা কি ঠিক আগে এই প্রশ্নের উত্তর দিন।

তবে আলোচনাটা জমেছে হাসপাতাল মোড় মাথার চায়ের দোকানে। জনা চারেক মানুষ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আলোচনায় ব্যাস্ত। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে কষ্ট থাকলেও রোগ হলে তো আর ফেলে রাখা যায় না। ধার করে হলেও চিকিৎসা করাতেই হবে। আঘাত নামলে প্রতিবাদ টুকু করতেই হবে তবে তা পরিষেবা চালু রেখে। সাধারণ মানুষের কাছে আপনারা ভগবান। অন্তত গরীব ঘরের মানুষজনের কথাটা ভাববেন। তবে এতকিছুর জটিলে যেতে চাইছেন না গ্রাম্য মহিলারা। তাঁদের কথায়, আমরা চাই দোষীদের কঠিন সাজা হোক। পাশাপাশি হাসপাতালে অচলাবস্থা মিটুক। বড়লোকের নার্সিংহোমে তো আর আমাদের ঢোকা যায় না। ওই আউটডোর আর লেবার রুম খোলা থাকলেই গ্রামের মানুষের সমস্যা অনেকটাই সুরাহা হবে।

এছাড়াও চেক করুন

জল বাঁচান, জীবন বাঁচান স্লোগানে পা মেলাল খুদে পড়ুয়ার

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম : জল বাঁচান, জীবন বাঁচান স্লোগানে পা মেলাল খুদে পড়ুয়ার। এদিন ঝাড়গ্রাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published.