Breaking News
Home >> Breaking News >> নেই সংগঠন, আমতায় সিপিএমের পার্টি অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছে দর্জিওলাকে

নেই সংগঠন, আমতায় সিপিএমের পার্টি অফিস ভাড়া দেওয়া হয়েছে দর্জিওলাকে

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: দেওয়ালের লাল রঙের প্রলেপ ফিকে হয়েছে। খসেছে প্ল্যাস্টার। রয়ে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর আগের দেওয়াল জুড়ে লেখা ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ কার্যালয়। খুলছেও সকাল-বিকেল। বাইরে থেকে দেখলে নিপাত দৃশ্য মনে হলেও ওই পার্টি অফিস এখন এলাকার মানুষের কাছে দর্জির দোকান বলেই পরিচিত।

গ্রামীণ হাওড়ার আমতা চন্দ্রপুর এলাকা। বাম আমলে একছত্র রাজ্যপাট ছিল সিপিএমের। পঞ্চায়েত ভোট-বিধানসভা অথবা লোকসভা নির্বাচন বাম নেতাদের কথাই ছিল শেষ কথা। সময় বদলেছে। সেদিনের বামেরা এখন অস্তমিত সূর্য। কমেছে সাংগঠনিক শক্তি, দলের আর্থিক অবস্থাও টালমাটাল। মিটিং মিছিলে যাবার বাসখরচ তুলতেও ধার করতে হয়। তার উপর শাসক দলের চাপ। যে ক’জন কর্মী সমর্থক রয়েছে তাদের সঙ্গে বসে দিনের আলোয় আলোচনা টাও বন্ধ। কেউ ভিড়েছে গেরুয়ায়। শেষমেশ সিপিএমের পার্টি অফিসটা বেশ কয়েকবছর ভাড়ায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রানিহাটি-আমতা সড়কে চা খানা বাসস্ট্যান্ডের পাশে টিনের চালের সিপিএম পার্টি অফিস। সকালের দিকে বেলা এগারোটা অবধি খোলা থাকে। আবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি। পার্টি অফিসের গায়ে টিকে রয়েছে লাল রঙ। ভিতরে ঢুকতেই সমস্তটা বদলে গেল। পার্টি অফিসটি এলাকার সাহাবুদ্দিন নামক একজন বয়স্ক সেলাই মিস্ত্রিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভিতরে মেঝে বসে গিয়েছে। জানালার একদিকে কাঠের পাল্লা নেই। একটা প্ল্যাস্টিকের লাল চেয়ার পাতা। কোথাও পাওয়া গেল না ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির রক্তকরবি পতাকা।

ঝুল ধরা দেওয়ালের পাশে মিস্ত্রির সঙ্গে শুরু হল আলাপ আলোচনা। আগে এখানে বামেদের আধিপত্য ছিল। এখন সেসব দিন আর নেই। সবটাই শাসক দলের ছত্রছাওয়ায়। বাইরে দেওয়ালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সাধারণ কার্যালয় চন্দ্রপুর শাখা। অথচ আপনি সেলাইমেশিন নিয়ে জামা কাপড় সেলাই করছেন মাসে ভাড়া কত টাকা? ওই ২৫০ টাকার মতো দিই। আর ঝাঁট জল দিয়ে পরিষ্কার রাখি। আমার আগে একজন ডাক্তার বসতেন। রুগি হয়নি ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর আমি সেলাই মেশিন চালিয়ে দিন গুজরান করি।

এ বিষয় আমতা-১ প্রঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সিপিএম সভাপতি মানবেন্দ্র রায় জানান, ওটা আমরা ভাড়া দিইনি। ওদিকে আমাদের সংগঠন ২০০৯ সাল থেকে সেই অর্থে নেই। তবে শুনেছি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কত ভাড়া, কাকে দেওয়া হয়েছে সে সব বিষয় আমরা কিছু জানিনা। ওখানে যেহেতু আমাদের সংগঠন নেই নিশ্চয়ই ওখানকার যারা ক্ষমতায় আছে তারাই দিয়েছে!

এ বিষয় চন্দ্রপুর অঞ্চল প্রধানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, চা খানা বাসস্ট্যান্ডের কাছে সিপিএম পার্টি অফিস ওরা যে ভাড়া দিয়ে দিয়েছে আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নেব।

এলাকার একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলা হলেও কেউ খুব একটা রা কাড়তে চাইলেন না। সিপিএম বলে আর কেউ এখানে নেই। যে কটা অবশিষ্ট ছিল তারাও জামা পাল্টে নিয়েছে। ইদানিং বামেরা গেরুয়ায় ভিড়েছে। তবে এলাকায় প্রভাব শাসক দলের। চন্দ্রপুর অঞ্চলও তৃণমূল কংগ্রেসের অধিনে।

এছাড়াও চেক করুন

অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়লো প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়কের ছেলে

স্টিং নিউজ সার্ভিস, মুর্শিদাবাদঃ মুর্শিদাবাদের একটি সরকারি আবাসনে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়লো প্রাক্তন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.