Breaking News
Home >> Breaking News >> রাহুলজি শুধু চৌকিদার বলে হাক দিলে হয় না, মানুষ শক্ত হাতের কাজ দেখতে চায়

রাহুলজি শুধু চৌকিদার বলে হাক দিলে হয় না, মানুষ শক্ত হাতের কাজ দেখতে চায়

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ: ভোট উৎসব শেষ। গণনা অনেকাংশ সম্পূর্ণ। দেশ দেখল প্রবল গেরুয়া বিক্রম। নিশ্চিহ্ন হওয়ার মুখে বাম। কংগ্রেসও নিরাপদ নয়। অনেকে আবার এই জয়ের সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী’র রেকর্ডকে মেলাচ্ছেন। কিন্তু আমরা এই ভোট থেকে কি কি বিষয় শিখতে পারলাম?

গান্ধী পরিবারের শেষ খুটি রাহুলজি। ছোটবেলা থেকে বড়ো হয়ে ওঠার মাঝে পারিবারিক রাজনৈতিক আলোচনা শুনে মুখস্থ করে নেওয়া। পরবর্তী সময় যমুনা দিয়ে বিস্তর জল গড়িয়েছে। মায়ের ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসেছেন। হয়েছেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি। ইচ্ছে ছিল দেশ চালাবার। এটা যদিও সবার ইচ্ছে, ওই ‘প্রধানমন্ত্রী’ নামক চেয়ারে বসবার।

কিন্তু ওই চেয়ারে বসবার জন্য কতটা পরিণত হয়েছেন মিস্টার রাহুল গান্ধী! স্বাধীনতার পর থেকে দেশের মানুষ অনেককিছু পেয়েছে। উন্নয়ন, গরীবি হাটাও শ্লোগান পাশাপাশি কয়েক হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। এসব তো মানুষ অনেক আগে দেখেছে। এবার কি দেখল?

★প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামনসামনি বসে রাফাল নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন রাহুল গাঁধী।

★অনাস্থা আলোচনায় ভাষণ দিতে দিতেই আচমকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলিঙ্গন করলেন রাহুল গান্ধী।

★ সেই মুহুর্মুহ স্লোগান ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’।

বয়সে বলুন আর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী অনেক বেশি প্রবীণ। সংকটগ্রস্ত সময়েও নিজেকে মেলে ধরবার প্রচেষ্টা করে গিয়েছেন। হতে পারে বিরোধীদের একরাশ অভিযোগ রয়েছে ওনার বিরুদ্ধে। হ্যাঁ উনি বিদেশ ভ্রমণে রেকর্ড গড়েছেন। বিদেশে জমা টাকা ফিরিয়ে আনতে পারেননি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কে দিয়ে বিরোধীদের বিব্রত করতে চেয়েছেন বলেও অভিযোগ শোনা গিয়েছে!

রাহুল জি আপনি দেশের মানুষের মনটা হয়তো বুঝে উঠতে পারেননি। একশো ত্রিশ কোটির মানুষ কিন্তু উচ্চবিত্ত বা মধ্যবিত্ত নয়। রয়েছে দেহাতি মানুষজন। যারা আজও কপাল সিঁদুরে রাঙায়। প্রধানমন্ত্রী কে নিয়ে একের পর এক মন্তব্য তারা কিন্তু ভালভাবে হয়তোবা নেয়নি। হ্যাঁ আপনি যেখানে গেছেন লোকজন সভাভর্তি করে এসেছে। আপনার মুখে নতুন ভারতের কথা শুনতে চেয়েছে। আর আপনি চৌকিদার বলে দর্শকের আবেগ নিতে চেয়েছিলেন।

সময় বদলাচ্ছে। ধীরে হলেও মানুষ হচ্ছে সচেতন। তারা খবর রাখে। এ দিন যখন সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন আপনাকে একজন দিকভ্রান্ত নাবিক মনে হচ্ছিল। আপনি লড়াই দিলেন কিন্তু তা ছিল অনেকটাই ভুলে ভরা। একসময় মানুষ কংগ্রেসের রাজত্বে বাস করেছে। তারা পুনরায় আর প্রতিশ্রুতি চায় না। কাজ চায় কাজ। প্রধানমন্ত্রী কি করেছেন, তিনি বাংলায় এসে কাঁকড় দেওয়া রসগোল্লা খাবেন সেটা পরের কথা। তার চেয়ে বড়ো কথা ভোটের আগে বারংবার বঙ্গে আসছেন। বক্তব্য রাখছেন। কতটা ঝাপিয়ে ছিল এটা কি ভেবেছেন!

ইউপি যদি বহুমত না দেয় তখন বাংলা, উড়িষ্যা, বিহার দিয়ে হিসাব বরাবর করতে হবে। অর্থাৎ দুধরনের গেমপ্ল্যান। আপনারা তুই তোকারি করে ও চৌকিদার চোর হ্যায় বলে কাটিয়ে দিলেন। তবে লড়াই আপনারাও দিয়েছেন। রাফাল নিয়ে অনিল আম্বানির মতো ব্যবসায়ীকে আক্রমণ শানিয়েছেন। দেশ কার হাতে থাকবে অনেকটা নির্ভর করছে দেশের এই সমস্ত এক নম্বর বিজনেসম্যান দের উপর। প্রণব বাবু কেন গেল আর এস এস এর সভামঞ্চে খোঁজ নিয়েছেন।

আপনারা শেষ মুহূর্তে প্রিয়াঙ্কাকে আনলেন বটে কিন্তু কংগ্রেস জিতল কি! মানুষের কাছে রয়ে গেলেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে। লড়াই জারি রাখুন। এই পৃথিবী থেমে থাকেনা অবিরাম ঘুরছে। সময় আপনাদেরও আসবে। একসময় বামেরা দেশের চালিকাশক্তি ছিল। হান্নান মোল্লার মতো নেতা সাংসদ এলাকায় কতবার ভিজিট করেছেন লোক বলতে পারবে না। কিন্তু বারেবারে জিতে গিয়েছেন। মনে রাখাটা জরুরি ঔদ্ধত্য এসে গেলে পরাজয় ঘটবেই।

আজ বামেদের যেটা হয়েছে কাল যে আপনাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে! এ রাজ্যে ঘাসফুল প্রান্তরে পদ্মফুল মাথা তুলেছে। এটার জন্যও নেতাদের ঔদ্ধত্য অনেকাংশে দায়ী। নেত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন আর লোকাল লেবেলের নেতারা ধরা কে সরা জ্ঞান করছে। আপনাদের জন্য একজন নেত্রীর হাতে গড়া দলের ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নাতীত! সামনে আরও কঠিন সময়। কলকাতা কর্পোরেশন নির্বাচন। তারপর বিধানসভা ভোট। সময় কিন্তু অল্প। নিজেদের বদলে নেবার এটাই সঠিক সময়।

এছাড়াও চেক করুন

বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে মৃত্যু হল এক যুবকের

স্টিং নিউজ সার্ভিসঃ খড়গ্রামে বোমা বাঁধতে গিয়ে বোমা ফেটে মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.