Breaking News
Home >> Breaking News >> জেলার একাধিক স্কুলের সাফল্য, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা করতে চায় অঙ্কন

জেলার একাধিক স্কুলের সাফল্য, বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের চিকিৎসা করতে চায় অঙ্কন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া:ঘড়িতে তখন সাড়ে ৯টা। প্রথম ফোনটা এসেছিল পুরনো এক বন্ধুর কাছ থেকে। টিভিটা খুলে দেখ মাধ্যমিকে তুই কি করেছিস। কথাটা শেষ হবার আগেই টিভিতে দেখাচ্ছে ৬৮৫ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে রাজ্যের অন্য ৪জন ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে ষষ্ঠ হয়েছে হাওড়া মৌড়ি কুন্ডু পাড়ার ছেলে অঙ্কন চক্রবর্তী। এমনটা ছেলের মুখে শুনেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে মা শর্বাণী চক্রবর্তী। ছোট থেকে একমাত্র ছেলেকে নিয়েই সংসার এগিয়ে নিয়ে গেছেন। স্বামী অক্ষয় চক্রবর্তী পেশায় প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সহায় এই একমাত্র ছেলে অঙ্কন। ওর সাফল্যে খুশি মা-বাবার পাশাপাশি এলাকার মানুষজন থেকে স্কুলের শিক্ষক সকলে।

ছোট থেকে পড়াশোনা ধ্যানজ্ঞান। সময় থাকলে কাগজের ঠাকুর, নৌকা, রথ তৈরি করেছে। মহিয়াড়ী কুন্ডু চৌধুরী ইন্সটিটিউশনে সমস্ত প্রজেক্ট নিজের হাতে তৈরি করে জমা দিয়েছে। পড়াশোনাটা অঙ্কনের কাছে নিজস্ব প্যাশন। ১৪০ বর্গফুটের ঘরে বসে দুপুর আর রাতে ঘুমানো ছাড়া বাকি সময় নিজেকে প্রস্তুত করবার কাজ চালিয়ে গিয়েছে। বেলা দশটার কিছু পর থেকেই একের পর এক টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রের সাংবাদিক আসতে শুরু করে। এর মাঝে আসছে একের পর এক ফোন। হাসিমুখে সমস্তটা জবাব দিচ্ছে। মায়ের হাতে মিষ্টিমুখ করে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন। ও প্রান্ত থেকে ছাত্রের ভালো ফলাফল দেখে প্রশস্তি আসছে। এরপর দশ মিনিটের সময় শুরু হয় কথোপকথন।

অঙ্কন প্রথমেই তোমাকে শুভেচ্ছা এমন ফলাফলের জন্য।
-আপনার শুভেচ্ছা পেয়ে খুশি হলাম।

প্রস্তুতি কবে ত্থেকে শুরু হয়েছিল?
-পড়াশোনাটা আমি নিজের মতো করে করেছি। নাইনে ওঠার পর থেকে পড়াশোনাটা বেড়েছিল। এরপর দশম শ্রেণিতে ওঠার পর চাপটা বাড়তে শুরু করে। খাওয়া ও ঘুমানো টুকু বাদ দিলে আবকি সময় পড়াশোনা করেছি।

কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলে
-দেখুন আমি নিজের নোট নিজে তৈরি করেছিলাম। প্রাইভেট টিউটর, স্কুলের স্যার এবং বই থেকে ঘেটে নিজস্ব প্রশ্ন তৈরি করেছিলাম। নোট মানে সাজেশন নয়। যত প্রশ্ন আছে সব কভার করেছিলাম। সেভাবেই মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় পড়ে গিয়েছি। অবশ্যই কমন পেয়েছি।

প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ৯৮ এবং ৯৯। অঙ্কে ১০০। ইতিহাসে ৯৯ এবং ভুগোলে ৯৭। ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ৯৩ কেন আসলো!
-এই প্রশ্নে কিছুটা হতাশ লাগলো। দেখুন সেটা আমি বলতে পারছি না। পরীক্ষা দিয়ে আমার তো মনে হয়নি জীবনবিজ্ঞান খারাপ যাবে! প্রশ্ন ঠিকঠাক ভাবে এসেছিল। আমিও যথেষ্ট ঠিকঠাক ভাবে ছবি এঁকে খাতায় লিখেছিলাম। কিন্তু হঠাত এরকম নাম্বার কমে গেছে বুঝতে পারছি না। স্কুলের পক্ষ থেকে বলছে রিভিউ করতে। দেখি বাড়িতে আলোচনা করে।

কতক্ষণ পড়াশোনা করতে আর কটা টিউশন ছিল
– দুপুরে ঘুমাতাম। এবং রাতে সাড়ে ১২টার পর ঘুমাতাম। বাকি সময় বই পড়তাম। আমার ৭টা টিউশন ছিল।

স্কুলের স্যার এবং টিউশন থেকে কতটা সাহায্য মিলেছে
-স্কুলের স্যারেদের সাহায্য অত্যন্ত পেয়েছি। ওনাদের জন্য আজ আমি এই ফলাফল করতে পেরেছি।

আগামীতে কি নিয়ে পড়বার ইচ্ছা এবং কি হতে চাও
-বিজ্ঞান নিয়ে পড়বার ইচ্ছা আমার বহুদিনের। সেইমত বিজ্ঞান বিভাগেই ভর্তি হব। স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া।

খাওয়ার প্রতি কতটা নজর দিয়েছিলে
-পাশে বসা মা শর্বাণী চক্রবর্তী জানান, ও বরাবর নিরামিষ প্রিয়। মাছ একদম খায় না। পড়বার সময় খাইয়ে দিয়ে যেতাম। বিরিয়ানি ওর পছন্দের।

সাফল্যের পিছনে বাবা-মায়ের ভূমিকা ঠিক কি
-বাবা প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করেন। ছোটো থেকেই এই মায়ের কাছে পড়াশোনা করেছি। আমার আজকের সাফল্য সমস্তটা মা-বাবার জন্য। ডাক্তার হয়ে সমাজের পাশে থাকতে চাই। মা-বাবার নাম উজ্জ্বল করতে চাই। কথা শেষ হতেই অন্য সাংবাদিক কিছু জিজ্ঞাসা করবার আগে চ্যানেলের গাড়িতে স্টুডিও মুখি।

যে স্কুলে অঙ্কনের কেটেছে দীর্ঘ সময় সেই মহিয়াড়ী কুন্ডু চৌধুরী ইন্সটিটিউশনে খুশির আমেজ। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া আনা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক বলাইচন্দ্র ভক্তা ছাত্রের সাফল্যে স্বভাবতই খুশি। তিনি জানান, শিক্ষক হিসাবে আমাদের কর্তব্য ছিল ওদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া। আজ আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। বাংলা মিডিয়াম স্কুল থেকে পড়াশোনা করে এমন রেজাল্ট করা যায়। ইংলিশ মিডিয়াম ছাড়া এমন হয় না আজ সেটা করে দেখিয়েছে অঙ্কন। আমি ওর ক্লাসে মাঝেমধ্যেই যেতাম। বলতাম এইভাবে করবি এইভাবে লিখবি। ওকে গাইডলাইন টা ভালোভাবে দিয়েছি। পড়াশোনার বিষয় খুবি আগ্রহ। জীবনবিজ্ঞান বিষয় আমার কাছে অনেক প্রশ্ন জানতো। ওর আগ্রহ ওকে সাফল্যের শিখরে পোঁছে দিয়েছে। ওর সাফল্যে আমাদের স্কুলের পাশাপাশি হাওড়া জেলার গর্ব।

অঙ্কনের সাফল্যে এলাকাবাসী খুশি। বাড়িতে মিষ্টি মুখ করাতে এসেছে এলাকার গুণীজন। কেউ তুলে দিয়েছে সঞ্চয়িতা। আবার কেউ দিয়েছে কলম। অঙ্কনের স্বপ্ন এবার ডাক্তার হওয়া। ও চায় ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের পাশে থাকা।

অঙ্কনের পাশপাশি বাঁটুল মহাকালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র অনিমেষ কয়াল পেয়েছে ৬১১। বি.এন.এস উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সোমা মাইতি। মা জরি ও সেলাইয়ের কাজ করে কোনোরকমে তিনমেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে। সোমার প্রাপ্ত নম্বর মাধ্যমিকে পেয়েছে ৬০৭। আইমা গাজন কুল উচ্চ বিদ্যালয় প্রত্যুষা সাঁতরা পেয়েছে ৬৬৭। সাধারণ চাষী’র ঘরের মেয়ে প্রত্যুষা প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে উলুঃ সাব ডিভিশনের দ্বিতীয় এবং শ্যামপুর থানায় প্রথম। জয়পুর উচ্চ বিদ‍্যালয়ের উৎস দাস পেয়েছে ৬৪০। এস.এন.কে.এ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী বিথিকা দলুই পেয়েছে ৬৩৮। জগৎবল্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যয় প্রধান পেয়েছে ৬৭৪। বেলকুলাই সি.কে.এ.সি বিদ্যাপিঠের সম্পতি সাঁপুই ৬৭২ নম্বর পেয়েছে। মাকড়দহ বামাসুন্দরী ইনস্টিটিউশন সম্প্রীতি ঘোষ পেয়েছে ৬৭০। শীতলচক বি.পি.এস.এস হাইস্কুল-এর শুভাশীষ সামন্তর প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৫। উদয়নারায়ণপুর বীরেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী পিয়াসী_অধিকারীর প্রাপ্ত নম্বর ৬৭৯! আমতা জোৎকল্যান পুষ্পরানী হাইস্কুল এর বৈশাখী হাজরা পেয়েছে ৫২৪। অত্যন্ত গরিব ঘরের মেয়ে বৈশাখীর সাফল্যে স্কুলের শিক্ষক ও এলাকাবাসী অত্যন্ত খুশি।

এছাড়াও চেক করুন

কচুয়া ধামে বড় দুর্ঘটনা, আহত প্রায় ৩৩, বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

স্টিং নিউজ সার্ভিস: কচুয়া ধামের পাঁচিল ভেঙ্গে বিপত্তি পদপৃষ্ট বেশ কয়েকজন তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.