Breaking News
Home >> Breaking News >> মেয়েদের পোশাক ও বিতর্কের বাঙালি

মেয়েদের পোশাক ও বিতর্কের বাঙালি

কল্যাণ অধিকারীঃ শান্তিনিকেতন হোক বা শ্রীচৈতন্যধাম। লোকাল ট্রেনের কামরা কিংবা স্কুল-কলেজ। মেয়েদের পোশাক বিতর্ক চলতেই থাকে। নইলে নটে শাক বাবু চিত্তরঞ্জন করে ট্রেনের কামরায় মাতিয়ে দেন। মেয়ে তখন ছুড়িতে পরিনত। কেউ আবার একটু এগিয়ে মাল বানিয়েও দেন।

এটা কেমন হয় যদি বলে দেওয়া হয় আপনি শান্তিনিকেতন বা শ্রীচৈতন্য ধামে প্রবেশ করছেন। মেয়েদের পোশাক বিষয় স্বাধীনতা এখানে নেই। জিন্স-হাত বের করা জামা, পা দুটোর হাটুর নিচের অংশ বেরিয়ে থাকা বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। গলার ওড়না সড়ে না যায়। ঋতুস্রাব হলে তো কোনো কথাই হবে না। সবকিছু থেকে সহস্র কদম দূরে থেকো নইলে নটে শাক বাবু চিত্তরঞ্জন করে লাল রক্ত প্যাড থেকে বের করে সমাজে তুলে ধরবে।

মনে পড়ে ভিনরাজ্য থেকে শান্তিনিকেতনে পড়তে আসা এক ছাত্রীর বাবার কথা। সেবার স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছাত্রীটিকে নিয়ে ফিরে যাবার আগে বলেছিলেন, “আমার মেয়ে পড়তে চেয়েছিল। আমরাও চেয়েছিলাম। কিন্তু এ কোন কলাভবন? এ কোন শান্তিনিকেতন?” ছাত্রীটিকে দিনের পর দিন সিনিয়র তিন সহপাঠী শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। মোবাইলে তুলে রাখা কিছু ছবি দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করবার অভিযোগ উঠেছিল। মেয়েটি তো পোশাকের ইতিবৃত্ত মেনে পড়াশোনা করছিলেন। তাহলে কেন তার শারীরিক সম্ভ্রম লুণ্ঠন করা হলো।

এটাও হয়ত ঠিক চৈতন্যধাম এসেছেন মানেই এখানে আপনাকে সালোয়ার কামিজ পড়তে হবে, চুল এলিয়ে যাওয়া যাবে না। শাড়ি পড়বেন পেট বা তারপাশ ঘেঁষে থাকা নাভিপদ্ম না বেরিয়ে থাকে। কেউ বলবেন, ‘রুচি , ঘরানা, সমীকরণ, আবেদন এবং ভাবাবেগ অনুযায়ী পোশাক পরে যাওয়া উচিৎ।’

অন্যের মতে ‘শ্রীচৈতন্য ধাম বা উপাসনা গৃহ, একটি আধ্যাত্মিক পরিমন্ডল।সেখানে অন্যরা যেমন পরে তেমন পরাই শ্রেয়। হয়ত এই জন্যে স্কুলে আজও ইউনিফর্ম ব্যবহার করা হয়। নির্দিষ্ট সামঞ্জস্য রাখা উচিত। ছেলে-মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই। সব জায়গায় লিবার্টির ভুত চাপলে মুস্কিল। তাতে করে নির্দিষ্ট ঐতিহ্য নষ্ট হবে। আজও অস্টমীর বিজ্ঞাপনের শাড়ি পরা ছবিকেই পুঁজি করা হয়।’

পোশাক বিতর্ক আছে হয়তোবা আগামী দিনে মেয়েরাও আওয়াজ তুলবে। শান্তিনিকেতন বা শ্রীচৈতন্য ধাম ছেলেদের ধুতি ও খদ্দরের পাঞ্জাবি পড়তে হবে। এককথায় রাবীন্দ্রিক পোশাক পরেই চত্বরে প্রবেশ। নইলে ক্যামেরা চলছে। এক ক্লিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

বিশেষজ্ঞ বলবেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি কে আমাদেরই বাচিয়ে রাখতে হবে। তবে ব্যাপারটা এত সংবেদনশীল যে এতে বিতর্ক বাড়বে বই কমবে না।’ আরও এককদম এগিয়ে ‘এসবের জন্য দেশের সংবিধানের চেয়ে পারিবারিক মূল্যবোধ অনেক বড়।’

তবে নারীশক্তি বলেও একটা কথা আছে বস। মুখ বুঝে সহ্য করবার দিন শেষের দিকে।

যে কারণে এই ভাবেও বলা যায় ‘সেদিনের ‘অচলায়তন’ পড়া আছে নিশ্চয়ই সকলের ? উত্তরের জানলা খুললে একজটা দেবীর অভিশাপে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে এরকম ভয় দেখানো হয়েছিল। তারপর পঞ্চক উপাধ্যায় আর সুভদ্র লড়াই করে অচলায়তনের আড়ষ্ট নিয়ম ভেঙে মুক্তি আনে৷ রবীন্দ্রনাথ নিয়মের বিরুদ্ধে ছিলেন আজীবন! আজকার তাঁর বিশ্বভারতী অচলায়তন হয়ে যাচ্ছে…আয়রনি।

আর সাইকোলজিক্যালি, ছোট পোষাক দেখে যারা ছিছিক্কার করছেন এটা মেয়েটির সমস্যা নয়৷ আপনারা কিন্তু জানেনও না হয়ত ওই ছোট পোশাক পড়া মেয়েটিই রবীন্দ্রনাথের অসম্ভব ভক্ত৷ হয়ত সঞ্চয়িতা তার কণ্ঠস্থ, হয়ত গীতবিতানের সব গান তার জানা।’

আমাদের  STING NEWZ  ইউটিউব চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কেঃ https://www.youtube.com/c/StingNewz7  আর প্রতি মুহূর্তে পেতে থাকুন ভিডিও খবরের তাজা আপডেট। 

এছাড়াও চেক করুন

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডে লায়ন্স ক্লাবের ক্লক টাওয়ারের উদ্বোধনে  দেব

পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডে লায়ন্স ক্লাবের ক্লক টাওয়ারের উদ্বোধন করতে এসে সাংসদ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.