Breaking News
Home >> Breaking News >> আমি এমন ডজ করতে পারি, যে লাল কার্ড দেখে নিজেই মাঠের বাইরে চলে যেতে পারি: শুভ্রাংশু রায়

আমি এমন ডজ করতে পারি, যে লাল কার্ড দেখে নিজেই মাঠের বাইরে চলে যেতে পারি: শুভ্রাংশু রায়

ফাইল ফটো

অনুপম সিংহরায়: একসময় দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথাতে বি টেক, এমবিএ পাশ করা সত্বেও ভালোবেসে তৃণমূল কংগ্রেস দলটায় যোগ দিয়েছিলেন বীজপুরের তরুণ বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। এবং ধীরে ধীরে নিজের কর্মকান্ডের সাহায্যে বীজপুর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করে তুলেছিলেন। নিজের যেটুকু প্রভাব তিনি জনমানসে তৈরি করেছিলেন, সেটা বোধ হয় অনস্বীকার্য যে তিনি বীজপুরের বুকে উন্নয়নের যে জোয়ার এনেছিলেন, তারই ফলপ্রসূ। যেটুকু করেছেন সম্পূর্ণটাই নিজের যোগ্যতায় এবং নিজের রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তায়। কোথাও কিন্তু একবারের জন্যও নিজের বাবা মুকুল রায় যিনি কিনা একসময় তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলে পরিচিত ছিলেন, তার সাহায্য নেননি। একথা মুকুল রায় স্বয়ং খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়েও একসময় স্বীকার করেছেন, যে  শুভ্রাংশু রায় আমার ছেলে হিসেবে কখনই এতটুকু ফেভার নেয়নি। ও যা করেছে বীজপুরের জন্য করেছে, এবং নিজে করেছে। একসময় তো সমগ্র বীজপুর জুড়ে একটাই স্লোগান ছিল ” উন্নয়নের কান্ডারী মাননীয় শুভ্রাংশু রায় জিন্দাবাদ”। কোথায় গেল সেসব স্লোগান? কোথায় গেল শুভ্রাংশুর প্রতি এত ভালোবাসা? এসমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রতিটা মুহূর্তে খোঁজার চেষ্টা করে চলেছে শুভ্রাংশু রায় এবং তার কিছু কাছের মানুষরা। তাই বোধ হয় নিজের বাবা মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই যখন তার প্রতি এই বিমাতৃসুলভ আচরণ সমগ্র বীজপুর জুড়ে প্রদর্শন করা হচ্ছে, তবে থেকেই যখনই খোলা মঞ্চে মাইক হাতে পাচ্ছে সবার কাছে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছে, “আমি কি দোষ করেছি”?

ঠিক একই রকম ভাবে রবিবার ১৫ই জুলাই একদিকে টিভির পর্দায় যখন সাধারণ মানুষ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে ব্যস্ত তখন কাঁচরাপাড়া শহর তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত এলাকার কৃতী ছাত্র ছাত্রীদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে মাইক হাতে নিয়ে একটার পর একটা উদাহরণ টেনে বীজপুরের বুকে তার প্রতি গত বেশ কিছু মাস ধরে  যে অবিচার হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

এদিন বক্তব্যের শুরুতেই মাইক হাতে নিয়ে একটু অভিমানের সুরে মঞ্চের পিছনে লাগানো ব্যানারের দিকে তাকিয়ে যখন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের নামের মধ্যে নিজের নামটাই খুঁজে পেলেন না, তখন বললেন, ” এখানে সবার নাম আছে অথচ আমার নাম নেই, এতে আমার কোনো রাগ নেই কারণ যাদের নাম আছে, তারা সবাই আমার অগ্রজ।” এবার তিনি উপস্থিত দর্শকদের কাছে একটু ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলেন, ” একটা অনুষ্ঠানে কার্ডে যে বাড়ির অভিবাবক তার নামটাই থাকেনা।” এবার উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ” একটু ইন্টারনেট ঘাটলেই দেখতে পাবে, এখানে যাদের নাম আছে, তাদের তুলনায় আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি। আমি কিন্তু স্কুলের লেফটাউট ছেলে নই, আমি বি টেক, এমবিএ পাশ করার পরেও, শুধুমাত্র দিদির(মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) জন্য রাজনীতিতে আসি। এবং দিদির জন্যই আমি একদিন কাউন্সিলর হয়েছিলাম, তারপর বিধায়কের টিকিট পেয়ে বিধায়ক হয়েছিলাম। যেদিন মনে হবে ছেড়ে চলে যাব। আমি শুধু চাই বীজপুরের মাটি টা সর্বদা উন্নয়নের ছোঁয়া পাক, বীজপুর সর্বদা মাথা উঁচু করে থাকুক। কিন্তু আমি জানিনা আমি কি অন্যায় করেছি। আমার তো মনে হয়না আমি জ্ঞানত কোনো অন্যায় করেছি। এখন বীজপুরের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানেই আমাকে ব্রাত্য করে রাখা হয়। আমার বাবা যদি কোনো অন্যায় করে থাকেন, তিনি নিশ্চই শাস্তি পাবেন। আমি সর্বদা আইনের সাথে আছি। তবে বিকাশ বসুর হত্যাকাণ্ডে যে বা যারা জড়িত তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। আমার নেত্রী একজনই , তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আছেন বলেই আমি এখনো বেঁচে আছি। দলের ভিতরে অনেক কিছু এখন আমাকে সহ্য করতে হচ্ছে। ঠিক যেমন শিব বিষ পান করে নীলকন্ঠ হয়েছিল। আমারও এখন এক অবস্থা। তবে আমিও কিন্তু এমন ডজ করতে পারি, যে নিজেই লাল কার্ড নিয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে পারি।”

শুভ্রাংশুর এদিনের বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যেভাবে  নিজের দলেরই বিধায়ক, সাংসদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে কি এগুলো শুভ্রাংশু রায়ের দল বিরোধী কার্যকলাপের মধ্যে পরছে? আবার কখনও বলছেন যেদিন ইচ্ছে হবে সেদিনই দল ছেড়ে চলে যাবো। এগুলো কি কোনোভাবে ভবিষ্যতে তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি?  নাকি দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক মানুষ যে কিনা সবসময় চেয়ে এসেছেন কিভাবে নিজের বিধানসভা বীজপুরকে আরও উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেওয়া যায়? যে যাই বলুক, শুভ্রাংশু রায়কে যারা মুকুল রায়ের ছেলে হিসেবে কম, “বীজপুরের উন্নয়নের কান্ডারী” হিসেবে বেশি ভালোবাসেন তাদের কাছে আজ একটা খুশির দিন। অন্যদিকে যদিও প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেও ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে পরাজিত হল ক্রোয়েশিয়া, সেই দুঃখ কিছুটা হলেও বোধ হয় শুভ্রাংশু রায় পুষিয়ে দিয়েছেন তার এদিনের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।

ভিডিওতে শুনুন কি বলছেন শুভ্রাংশু :

 

আমাদের  STING NEWZ  ইউটিউব চ্যানেলটি সাবসক্রাইব করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কেঃ https://www.youtube.com/c/StingNewz7  আর প্রতি মুহূর্তে পেতে থাকুন ভিডিও খবরের তাজা আপডেট। 

এছাড়াও চেক করুন

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কাটোয়ার মেঝিয়ারীতে রক্তদান শিবির ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়া : ৭২তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে কাটোয়া ২নং‌ ব্লক তৃনমূল কংগ্রেসের মেঝিয়ারী শাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.