Breaking News
Home >> Breaking News >> কাটোয়ার জগদানন্দপুরে বিরল পাথরের মন্দির

কাটোয়ার জগদানন্দপুরে বিরল পাথরের মন্দির

গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী, কাটোয়া, পূৃর্ব-বর্ধমান: কাটোয়া -কালনা এস টি কে কে রোড়ে কাটোয়া থেকে ৭ কিমি দূরে জগদানন্দপুর গ্রামে একটি বিরল ৮২ফুট উচ্চতার পাথরের মন্দির আছে।মন্দিরটি ১৮৩৯খ্রীষ্টাব্দে জগদানন্দপুরের বাসিন্দা তথা বর্তমানে বাংলাদেশের যশোহর জেলা সংলগ্ন এলাকার জমিদার রাধামোহন ঘোষ চৌধুরী নির্মাণ করেন।তার পিতার নাম কৃষ্ণদুলাল ঘোষ চৌধুরী। তাদের কুল দেবতা দামোদর ও লক্ষ্মী-নারায়ণের সেবার উদ্দ্যেশে নারায়ণকে স্থানান্তরিত করে আলাদা মন্দির বিষ্টু মহলে রাখা হয়।
বর্তমানে পাথরের মন্দিরটিতে দামোদর শিলা,আড়াইফুট উচ্চতা রাধা কৃষ্ণ মূর্তি ও নিমকাঠের নির্মিত শ্রীচৈতন্য দেবের মূর্তি পূজিত হচ্ছে।
মন্দিরটির সেবাভার বর্তমানে নবদ্বীপের গৌড়ীয় মঠের অধীন।মন্দিরটি দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগ।পুরাতত্ত্ব বিভাগ বেশ কয়েকবার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে মন্দিরটি সংস্কার করেছেন।২০০৬সালে প্রায় ৩০লক্ষ টাকা এবং ২০১৭ সালে প্রায় ১২লক্ষ টাকা ব্যয় করে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়।ফলে মন্দিরটি দর্শানাথীদের জন্য একটি মনোরম জায়গা।
সকাল ৮থেকে ১০টার মধ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারলে ভোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিরাট বাগানের ফল ও ফুলের গাছ মন্দিরটিকে
আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ইতিহাস গবেষক অশেষ কয়াল জানালেন যে,মথুরা-বৃন্দাবন-মির্জাপুর থেকে বেলেপাথর যমুনা ও গঙ্গা নদীর প্রবাহ পথে নৌকাযোগে আনা হয়েছিল।উত্তরপ্রদেশ থেকে ১৫-২০ ঘর পাথর শিল্পী এখানে এসে এই বিশাল মন্দিরটি নির্মাণ করেন।পাথরগুলি জোড়া দেওয়ার জন্য কোনো সিমেণ্ট ব্যবহার করা হয় নি।পাথরের উপর পাথর চাপিয়ে খাঁজ কেটে খিলান পদ্ধতিতে এই বিশাল পাথরের মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে।পঞ্চরত্ন এই মন্দিরটি সূক্ষ্ম পাথরের কাজগুলি শ্লেট পাথরের উপরে খোদাই করে মন্দির গাত্রে বসানো আছে।
দোলপূর্ণিমায় মন্দিরের সামনের মাঠে মেলা বসে ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।রাধা অষ্টমী তিথিতে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হয় এবং ৫২ রকম ব্যঞ্জন দিয়ে পূজা ও ভোগপ্রসাদ দেওয়া হয়।
দোতলা মন্দিরের উপর তলায় প্রধান পুরোহিতের বসার আসন ও শ্রোতাদের ধর্মকথা শোনার বসার বিশাল চত্বর রয়েছে।সবথেকে আশ্চর্য বিষয় এটা যে,আজ থেকে প্রায় ১৫০বছর আগে যখন বিজ্ঞানের এত উন্নতি হয় নি তখনকার দিনে কি করে অত ভারী পাথরগুলি অত উচ্চতায় তোলা সম্ভব হয়েছিল নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।বর্ধমান জেলায় এরকম দ্বিতীয় কোনো পাথরের এত বড় মন্দির নেই।কলকাতায় বিড়লাদের পাথরের মন্দিরটি বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গেও এর বিকল্প পাথরের মন্দির খুঁজে পাওয়া কঠিন।দেশ-বিদেশে থেকে দর্শানাথীরা মন্দিরটি দেখতে আসেন এবং প্রাচীন এই স্থাপত্যের দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে যান।

loading...

এছাড়াও চেক করুন

নদিয়ায় জলে ডুবে মৃত্যু এক যুবকের

কমল দত্ত, স্টিং নিউজ, নদিয়া: জলে ডুবে মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কুপার্স …

Leave a Reply

Your email address will not be published.