Breaking News
Home >> Breaking News >> বেলপাহাড়ির সভাতে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি কেন্দ্রকে পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে হবে নাহলে আমরা ছাড়ব না

বেলপাহাড়ির সভাতে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি কেন্দ্রকে পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে হবে নাহলে আমরা ছাড়ব না

কার্ত্তিক গুহ,ঝাড়গ্রাম: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেলপাহাড়ির সভা থেকে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্ত করতে হবে। তদন্ত না করা পর্যন্ত আমরা ছাড়ব না। তাঁর প্রশ্ন, কে ১১,৫০০ কোটি টাকা নিয়ে গেল? কে ঋণ দিল?। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যাঙ্কে আপনার টাকা নিরাপদ নয়। তাঁর দাবি, এফআরডিআই বিল প্রত্যাহার করতে হবে কেন্দ্রকে। বিল ফেরাতে পরপর দু’বার চিঠি দিয়েছি। দ্বিতীয় চিঠিতে আরও কড়া করে বিল ফেরানোর দাবি করেছি।

এদিন বেলপাহাড়ির প্রশাসনিক জনসভা থেকে অজস্র প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রীর। ঝাড়গ্রাম জেলার ২৮১টি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। যেগুলি রূপায়িত করতে খরচ ধরা হয়েছে ১৩৮.৪৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ৩৮ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা খরচ করে রূপায়িত ২০৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বেলপাহাড়ি ফুটবল ময়দানে সরকারি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনসংযোগ যাত্রার সূচনা করেছিলাম বেলপাহাড়িতে। মোটরবাইকে করে ঘুরেছিলাম অনেক গ্রাম। দেখেছিলাম, গাছের মূল খেয়ে থাকেন স্থানীয়রা। নিজের লেখা উপলব্ধি বইতে জানিয়েছিলাম সেকথা। পূর্বতন বাম জমানাকে আক্রমণ করে তাঁর দাবি, কেউ ফিরেও তাকাত না জঙ্গলমহলের দিকে। আগের আমলে বঞ্চিত ছিল জঙ্গলমহল। তাই ২ টাকা করে চাল দেওয়া শুরু হয়েছিল। জঙ্গলমহলে শান্তি ফেরানোর জন্য পুলিশকর্মীদের অভিনন্দন জানাই। তিনি বলেন, সাড়ে ৯ হাজার গ্রামীণ আবাস তৈরি হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলায় আগামী দিনে হবে বিশ্ববিদ্যালয়। এলাকায় ৩টি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ৫টি আইটিআই। গড়ে তোলা হয়েছে কিষাণ মান্ডি।
তিনি জানান, জঙ্গলমহলে ৭০ লক্ষ সাইকেল বিলির টার্গেট রয়েছে সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গরিবি দূর করাই আমাদের কাজ। জঙ্গলমহলের ফুটবলারদের জন্য আছে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক। নতুন করে সাজানো হচ্ছে ঝাড়গ্রামকে। কুর্মিদের তফসিলি উপজাতিভুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার এই মর্মে রাজ্যের প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছি। জঙ্গলমহল দিয়ে সন্ধ্যেবেলার বাস পরিষেবা পুনরায় চালু করার বিষয়টিও ভাবনাচিন্তার স্তরে রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, সন্ধেবেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস পরিষেবা চালু করতে আলোচনা চলছে।
এদিন বামেদের পাশাপাশি, বিজেপিকেও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, এই সরকার মর্যাদার সরকার। কোনও সাম্প্রদায়িকতা-ভেদাভেদ করা হয় না। তাঁর আহ্বান, কারও কথা শুনে সরকারকে ভুল বুঝবেন না। মানুষের উপর বোঝা চাপাবে না মা-মাটি-মানুষের সরকার।

জনসভা শেষে সড়ক পথে ঝাড়গ্রামে এসে পর্যটন দফতরের ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে রাত্রিযাপন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৬ ফেব্রুয়ারি ঝাড়গ্রাম শহরে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওইদিন জেলার বিভিন্ন কাজকর্ম রিভিউ করে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন-পুলিসের কর্তারা ছাড়াও জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, জেলার আটটি ব্লকের বিডিও-রা উপস্থিত থাকবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে হেলিকপ্টারে কলকাতার ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী।

loading...

এছাড়াও চেক করুন

হালিশহর বানিমন্দির এলাকায় বোমাতঙ্ক

স্টিং নিউজ সার্ভিস: শুক্রবার গভীর রাতে হালিশহর বানিমন্দির সংলগ্ন ওয়ার্ড অফিসের সামনে কিছু দুষ্কৃতী বোমা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.