Breaking News
Home >> Breaking News >> রাত পার হলেই মহাস্নান, পিঁপড়েচলা ভিড় উধাও, গঙ্গাসাগরে আগত তীর্থযাত্রীর সংখ্যা নিয়েও দ্বিমত

রাত পার হলেই মহাস্নান, পিঁপড়েচলা ভিড় উধাও, গঙ্গাসাগরে আগত তীর্থযাত্রীর সংখ্যা নিয়েও দ্বিমত

গঙ্গাসাগর থেকে কল্যাণ অধিকারী: মকরসংক্রান্তি পূর্ণ স্নান একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। হাড় ঠাণ্ডা করে দেওয়া শীত হোগলা পাতা ভেদ করে ঢুকছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাত পার করবার অপেক্ষায়। কোনমতে ভোরের আভা শুরু হলেই হুরমুড়িয়ে কনকনে জলে নামবে। হয়ত এখানেই মিলন হবে ধর্ম ও বিশ্বাসের। আসলে মানুষের বিশ্বাস কী না মেলায়।
শনিবার সকাল থেকেই সাগরতট ভরতে শুরু করেছে। পূণ্যস্নানের আগে একটিবার ডেমো ডুব দিলে কেমনটা হয়! তারি প্রস্তুতিতে আট থেকে আশি সকলে। কানপুর থেকে আগত নিমকি, মহারাষ্ট্র থেকে এসেছেন সৌরভী, বিহার থেকে এসেছেন আশাবরী সকলেই একবাক্যে মেনে নিলেন কালকের স্নানে ভিড় হবে বেশি। আজকে একটু স্নান সেরে গঙ্গা মাইয়া কি পুজো দিতে মানা কোথায়। ফুল, ধূপ, প্রদীপ জ্বালিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রণাম সেরে শুরু করে দিলেন নিজ মনে পুজো করা। বিড়বিড় করতে করতে ছোটু কি মাইয়া, মুন্না কি বিবি কপালে ঠেকাচ্ছেন সিঁদুর। কেউ আবার স্বামীর হাত ধরে সঙ্গমে ডুব দিচ্ছেন। উঠে যাচ্ছেন ভিজে কাপড়ে পূণ্যের বিশ্বাস ভরে।

জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও ভগবানের প্রতি ওঁদের এতটুকু বিশ্বাস টলাতে পারেনি। এক হাত মাথায় পুঁটলি ধরা আর অপর হাত স্বামীর হাতে। শরীরের প্রতিটা গাঁট বেয়ে বিদায় নিয়েছে শৈশবের প্রেম। যৌবনের ভার নিয়ে জন্ম দিয়েছে একের পর এক সন্তানের তবুও সাগরে এসেছে স্বামী স্ত্রী পূণ্য লাভের আশায়। টলমলে পা ফেলে কোনক্রমে এগিয়ে চলেছে। হয়ত এই কারণেই মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় পড়ন্ত বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে ৪জনের মৃত্যু নিয়ে রসিকতার সহিত বলে উঠলেন, অনেককে দেখলাম কোনোক্রমে হেঁটে সাগরে আসতে। ভাবছি আদৌ ফিরতে পারবে তো! ওদের মধ্যে কেউ মরে গিয়ে থাকলে তা নিউজের মধ্যে পড়ে না। উপস্থিত সাংবাদিক দের একাংশ হেসে লুটোপুটি। মৃত্যুভয় ওঁদের হয়ত নেই, তাই হয়ত সর্বদা প্রকৃতির হাসি ওই দোহাতী বৃদ্ধবৃদ্ধাদের মুখে। ভরসা ননিয়ে টলমলে পায়ে পাড়ি জমায় সাগরে। পাশে বসা এক সাংবাদিক ফিসফিস করে বলে উঠল আপনি নারদ কান্ডে তদন্তকারী সংস্থার জেরার শেষে কোনক্রমে হাসি তুলে ধরেছিলেন ক্যামেরার সামনে মনে আছে তো মন্ত্রী মশাই!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ওয়াই. এম.রত্নাকর রাও আজও হিসেব দিতে পারলেন না ঠিক কত লক্ষ মানুষ এসেছেন সাগরে। আর কত মানুষ আসবেন। তবে সাগরতট ও মন্দিরের সামনে আহামরি ভিড় নেই। বেশ খোশ মেজাজে নিরাপত্তারক্ষীরা। কেউকেউ বেঞ্চে পা বিছিয়ে ঘুগনি মুড়ি জমিয়ে খেতে ব্যস্ত। ২০ লক্ষ তো দূর ১০ লক্ষ হবে তো এই প্রশ্ন অনেকের মুখে মুখে। বেলায় পুরীর শংকরাচার্য সাংবাদিক বৈঠকে বলে বসলেন ভোটের জন্য অনেকে হিন্দু হয়ে অন্য সম্প্রদায়ের টুপি পড়ে নিচ্ছেন, হাত বাড়িয়ে অন্য ধর্মে গা মেলাচ্ছেন তা কিন্তু ঠিক না। গঙ্গাসাগর আসবার পথে দেখা গেল যত না সাধুর ছবি তার থেকে বেশি এখানকার মুখ্যমন্ত্রীর ছবি। বিকাশ হচ্ছে তার মানে এই নয় ধর্মীয় রীতি বদলে যাবে। 
বাঁকে করে মা কে পুণ্যি করাতে আসা সন্তানের দেখা নেই। সেলফি রসিক ছেলের সময় নেই মা বাবার প্রতি। তবুও বৃদ্ধবৃদ্ধা কনকনে জলে ডুব দিতে গ্রাম-জেলা-রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছে। সাগর কিনারে দাঁড়িয়ে আপন ভাটিয়ালি গান ধরেছেন। কোমরে শাড়ি গুঁজে মাথা নিচু করে প্রণাম ঠুকছে। ওঁদের মত দোহাতী মানুষ গুলোর পিঁপড়েচলন কমে আসছে। কমেছে নিরুদ্দেশের সংখ্যা। কপিল মুণির সামনের জনসমুদ্র তাও ফাঁকা। বছর দুয়েক আগের ভিড়ে ঠাসা সাগর এখন অনেকটাই ফাঁকা। আশির বৃদ্ধ আর সত্তরের বৃদ্ধা খোলা আকাশের নীচে হোকলা ঘেরা ঘরে কাপড় ছাড়ছেন।  আর মাথায় উড়ছে ড্রোন ক্যামেরা। বিশ্বাস আর ধর্মেরঢাকে কাঠি দিতে চলেছে বছরভর বিকাশের পাঠ। ওই বিকাশের মন্ত্রে গঙ্গাসাগর একবারের নয় বছরভর আসার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

loading...

এছাড়াও চেক করুন

তৃনমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তৃনমূল কংগ্রেসে কর্মী

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ফের তৃনমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক তৃনমূল কংগ্রেসে কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.