Breaking News
Home >> Breaking News >> লিলুয়ায় সালিশিতে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার প্রতিবন্ধী, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

লিলুয়ায় সালিশিতে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার প্রতিবন্ধী, পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এলাকাবাসীর

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, হাওড়া: প্রথমে পারিবারিক বিবাদ। তারপর সালিশি। তারপর বেধড়ক মারধর। তার পর মৃত্যু। অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কাউন্সিলর ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গ্রেফতার তো হোল না কাউন্সিলর। উলটে মৃতার অপর এক প্রতিবন্ধী ভাইকে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে হাওড়া লিলুয়া থানার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, পারিবারিক বিবাদ নিয়ে সালিশি সভায় ডেকে মারধরের ঘটনাটি গত ১৫ মে ঘটে লিলুয়া পঞ্চানন তলায়। পরের দিন ১৬ মে উদ্ধার হয় সোনা বিশ্বাস (৫৫) এর মৃতদেহ। শরীরে ছিল একাধিক আঘাতের চিহ্ন। নির্দিষ্ট ভাবে লিলুয়া থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের না হলেও স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ছিলো সোনাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। পরে হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসকরাও সেসময়ে এমনটাই দাবী করেছিলেন বলে জানা গেছে। তড়িঘড়ি শুরু হয় মৃতদেহ সৎকারের কাজ।

তবে এলাকার সাধারন মানুষের চাপে যদিও তা করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর একটি মামলা রুজু করে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। মামলা রুজু হলেও পুলিশ এই মৃত্যুর তদন্তে কোনোপ্রকার সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়নি বলে জানা যায়। ঘটনার পর কেটে যায় আরো দুটো দিন।

অভিযুক্ত ভাই এরপর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। যাতে বলা হয় ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য অপর প্রতিবন্ধী ভাই দোষী। সেইমত কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রতিবন্ধী ভাই যে কি না কথা বলতে পারে না। ঠিকমতন দাঁড়াতেও পারে না। পুলিশ প্রতিবন্ধী প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করে খুনের মামলা দিয়ে হাজির করে আদালতে। দেখা যায় আজ পুলিশি জিপে তুলতে গেলে পড়ে যাবার উপক্রম হয়।

এমন এক ব্যক্তিকে পুলিশি অতি সক্রিয়তার সহিত গ্রেফতার করায় ক্ষোভ এলাকাবাসী মধ্যেও। শেষমেশ ঘটনায় বেগতিক দেখে পুলিশ আদালত থেকে থানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় প্রতিবন্ধীকে। ঘটনা জানাজানি হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ।

এরপরই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। সূত্রের খবর হাওড়া সি টি পুলিশের কমিশনারের দপ্তরের নির্দেশে লিলুয়া থানার পুলিশ প্রতিবন্ধী প্রৌঢ়কে নিশ্বর্তে বাড়িতে ফিরিয়ে দেয় বৃহস্পতিবার বিকেলে।

সূত্রের খবর, এই ঘটনায় বালি কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া পুলিশে খোঁজখবর নিয়েছেন। যাতে করে প্রকৃত দোষী গ্রেফতার হয় তাও দেখার কথা বলেছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন তবে কি শাসক দলের কাউন্সিলর অভিযুক্ত বলেই গ্রেফতার হননি। পুলিশ সক্রিয়তা দেখায় নি। অথচ প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে যা ছিল বিপরীত চিত্র।

Check Also

মাটি খুঁড়তেই মিলল কলসিতে রাখা হাড়গোড়

জয়জীবন গোস্বামী , স্টিং নিউজ করেসপন্ডেন্ট, বাঁকুড়া : বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় মাটি খুঁড়তেই মিলল কলসিতে রাখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *