Breaking News
Home >> Breaking News >> অসামান্য প্রতিভা থাকলে কদর পায় না বাজারে,পড়ুন তাদের করুণ কথা

অসামান্য প্রতিভা থাকলে কদর পায় না বাজারে,পড়ুন তাদের করুণ কথা


পিয়া গুপ্তা, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট,উত্তর দিনাজপুরঃ  বাঁশের ওপর এদের বাঁচা মরা। বাঁশ চিরে তৈরি নানা জিনিসের সঙ্গে জডিযে রয়েছে  ওদের জীবন।বাঁশের ধামা, কুলো ,ঝুড়ি বুনে ওদের জীবন এক পা দুপা করে চলে। কিন্তু বর্তমানে কুটির শিল্পের বাজার মন্দা ।তাই ওদের জীবন আর চলছে না।এক বেলা খাওয়ার জুটছে তো অন্য বেলা উপোস করেই থাকতে হচ্ছে ওদের। ওরা কিন্তু আর কেউ নয় উত্তর দিনাজপুরে ছোট্ট একটি গ্রাম মালিগাঁও 

এর বাসিন্দারা ।এই গ্রামে বিশ থেকে পঁচিশ টি বৈশ্য পরিবারের রুটিরোজগারের একমাত্র সম্বল হলো বাঁশের নানান জিনিস তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করা।বাড়ির ছোটো থেকে বড়ো সকলেই সকাল থেকে লেগে পড়ে এই কাজে। 
একটা সময় ছিলো যখন এই বাঁশের তৈরি ধামা,কুলোর একটা চল ছিলো বাজারে।কিন্তু যুগের সাথে সাথে হাতের তৈরি এই জিনিস গুলোর আর তেমন কদর পায় না ।

তবুও বাপ ঠাকুরদার আমলের ব্যবসা কি করেই বা ছাড়বে তারা ।আর ছেড়েই বা কোন কাজ করবে। দুটো পয়সা রোজগার করেই তো কোনো মতে দিন চলে ওদের।
তবুও প্রতি বছর পূজোর মরশুম গুলোতে সামান্য কিছু লাভের আশায় দিন কাটে তারা।আর কিছুদিন পর কালি পূজো তার পরেই হিন্দু দের শ্রেষ্ঠ উত্সব ছট পূজো।তাই এই পূজোর মরশুম গুলোতেই প্রতি বছর একটু হলেও তারা দুটো বেশি পয়সা রোজগার করতে পারতো  ।তাদের হাতের তৈরি ডালি কিংবা কুলো তৈরি করে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ বন্যা ও অন্যদিকে কুটির শিল্পের বাজার 

ম্লান হয়ে যাওয়াতে এই বার যেন দিশেহারা তারা।

আশা ছিলো তাদের হাতের তৈরি ডালি, কুলো  বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে ছট পুজোয় উপহার দিবে। কিন্তু যুগের সাথে সাথে হারাতে বসেছে তাদের এই শিল্পকলা।

বর্তমানে সাধারণ মানুষের বাঁশের তৈরি জিনিসের  আকর্ষণ তো কমেছে ।এখন পিতল ও তামা দিয়েই সকলেই সব কাজ সারছেন।ফলে বাঁশের তৈরি জিনিসের আর কদর ও নেই তেমন।
এর পাশাপাশি  সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া   বন্যায় জীনিসের বাজারো মন্দা ।তাই এদের জীবিকায় এখন ভাঁটার টান।

 

এই গ্রামের ই এক মহিলা নাম ইনো বৈশ্য তিনি জানান স্বামীর সাথে সাথে গত 20 বছর ধরে তিনিও এই বাঁশের কুলো ,ডালি তৈরি করে সংসার চালাতে স্বামীকে সাহায্য করেন।সংসারে টাকার অভাবে ছেলে মেয়ে কে শুধু দুমোঠো ভাত ই কোনো মতো তুলে দিতে পারেন তারা।সকালে কাজ সেরে এই ডালি কুলো তৈরি করতে বসে যান সকলে মিলে ।যদিও তেমন লাভ নেই এক একটা বাঁশ 200 টাকা দামে কিনে আনতে হয় ,একটি বাঁশ থেকে 3-4 টি ডালি করা সম্ভব হয়  ।কিন্তু বাজারে সেগুলো নায্য মূল্যে  নিতে চায না কে। ।লোকসান হলেও কখনো কখনো এক একটি ডালি কুলো 30-40 টাকা দামেই বিক্রি করে দিতে হয় ।

লোকসানের পরিমাণ বেশি হলেও কোনো রাস্তা  নেই এদের।তাই এটাই তাদের জীবিকা। 
পেটে  বিদ্যা যদি থাকতো তাও কিছু করে খেতে পারতো এরা।কিন্তু পডাশুনোটাই আজানা এদের কাছে তাই বাবা ঠাকুরদার আমলের এই কাজ গুলোই জানা তাদের।তাই এই গ্রামের 25-30 টি পরিবার এই ভাবেই দুটো পযসা রোজগার করে।
এই গ্রামের ই মেয়ে মিনতি,কাকুলি,শান্তি এদের বয়স 10-18 এর মধ্যে ছোটো থেকে পড়াশুনো কি জানে না ওরা।জানে শুধু বাঁশ কেটে তা দিয়ে নিত্যনতুন সামগ্রী তৈরি করতে।কারণ পযসা না থাকায় এরা কখনো স্কুলের মুখ ও দেখেনি।শিক্ষা যদিও নেই এদের পেটে তবুও প্রতিভা তো আছে।কিন্তু তবুও আজ কোনো মূল্য দেয না কেউ এই প্রতিভার ।একটা সময়ের কুটির শিল্প আজ যেন বিলুপ্তির পথে।নেই কোনো আর্থিক কাঠামো নেই কোনো সরকারি সাহায্য এই দুই এর জাতাকলে পিসে আজ যেন এই গ্রামের সকলেই স্তব্ধ ।একটাই ভাষা এদের কি ভাবে দিন চলবে আমাদের আগামী দিনে।জমি জমাও তো নেই তেমন কারো।এই শিল্পের পাশাপাশি হারিয়ে যাবে কি এই শিল্পীরা ।লোকো শিল্পীরা যদিও আজ ভাতা পাচ্ছে ,পাচ্ছে সরকারি সাহায্য কিন্তু সরকার কেন এই সব শিল্পের দিকে আজও তাকায না এটাই যেন তাদের যেন একমাত্র প্রশ্ন হযে দাঁড়িয়েছে।

Check Also

বোলপুরের মহিদাপুর গ্রামে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক

দেবস্মিতা চ্যাটার্জ্জী, বীরভূম: বোলপুরের মহিদাপুরে মোটর বাইকের ধাক্কায় মৃত্য হল একজনের, আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.