Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়ার ধুবুলিয়ায় মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে পেমেন্ট ডেবিট কার্ডে

নদিয়ার ধুবুলিয়ায় মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে পেমেন্ট ডেবিট কার্ডে

শুভায়ুর রহমান, ধুবুলিয়া: কানের পাশ দিয়ে হুশ করে চলে যায় দূর পাল্লার বাস,ট্রাক।কোলাহল সড়কের পাশে টিনের শেডে কয়েকজন অফিস কর্মী চা,বিস্কুট খেয়ে দোকান থেকে বের হলেন।অন্য এক পথ চলতি বাইক আরোহী মানি ব্যাগের নোটের দিকে তাকিয়ে দোকান মালিকের ‘হা’করার আগেই কান থেকে হেড ফোন খুলে বলে ওঠেন ‘ডেবিট কার্ডেও পেমেন্ট করতে পারেন।ততক্ষণে মানি ব্যাগ থেকে পাঁচশো টাকার একটি ঝকঝকে নোট বের করেছেন। “তাই নাকি?বাহ!ভাল হল।”সজোরে বলে উঠলেন। এক কাপ মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে একশো,পাঁচশো টাকার নোট হামেশাই দেখান সাধের খদ্দের বন্ধুরা।গালে হাতে দিয়ে বাতলে ফেলেন উপায়।উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।পাশে নদিয়ার কৃষ্ণনগর ২ ব্লক অফিস। তার সামনে শ্রীজি টি স্টল।মাটির ভাঁড়ে চা ৬ টাকা ও ১০ টাকা।সাথে বক্সে অরিজিত সিং..হানি সিং..বা হাল আমলের বাংলার অনুপমের.. “তুমি যাকে ভালোবাসো… স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো…।” গান শুনতে, ডাউনলোড করতে হাজির হয় যুবকের দল।ওয়াইফাই নিয়ে বেশ চলছিল শ্রীজির মালিক সুদীপ বিশ্বাসের কিন্ত বাধ সাথে খুচরো সমস্যা।খুচরো খদ্দেরা নিতে চান না। বা খোদ মালিকের বক্স অফিসে খুচরোতে ভরে যাওয়ার জোগাড়। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে দোকানে নিয়ে আসা হয় সোয়াইপ মেসিন।সেই সোয়াপ মেসিনের সাহায্যে ডেবিট কার্ডে চলছে শ্রীজি টি স্টলে চাওয়ার বিল মেটানো। স্থানীয় যুবক সুমন মন্ডলের কথায়, “ইদানীং কমবেশী সবার কাছেও ডেবিট কার্ড আছে।ডিজিটাল সময়ে ডিজিটাল পদ্ধতি খুবই ভাল ভাবনা।” অন্য একজন অংশু হালদার বলেন”এখন সময়ের সাথে তাল মেলাতা মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে সোয়াইপ মেসিনে পেমেন্ট কার্যকরী উদ্যোগ। ” দোকানের মালিক সুদীপ বিশ্বাস জানান, “একদিন সাত সকালেই একজন এক কাপ চা খেয়ে পাঁচশো টাকার নোট দেন।সেদিন ভাঙানি ছিল না।শুধুই খুচরো। তিনি নিতে রাজী হননি।মন্র হল ব্যবসার পদ্ধতি পালটানো দরকার। ” এছাড়া দোকানে সোয়াইপ মেসিনে পেমেন্ট হলে এক্কেবারে একাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে।ব্যাঙ্কে টাকা জমা দিতে যেতে হচ্ছে না বলে হেসে ওঠেন সুদীপ বিশ্বাস। জানাগেছে দেড়, দু হাজার টাকা অনলাইনে বিল মেটায় খদ্দেররা।সিসিটিভি,ফ্রী ওয়াই ফাই আর হিন্দী বাংলা গানের সাথে যোগ হয়েছে সোয়াইপ মেসিন।আর দূর দূরান্তের খদ্দেররা মানি ব্যাগ থেকে বের করছেন ডেবিট কার্ড।নগদ কড়কড়ে নোট নয়। মাটির ভাঁড়ে চা খেয়ে অনলাইনে বিল মেটানো নজর কেড়েছে এলাকায়।বিকাল হলেই আমিনুল সেখ, জয়ন্ত বিশ্বাসদের আগমন ঘটছে।পকেটে টাকা থাক বা না থাক আছে শ্রীজি টি স্টল আর আছে ডেবিট কার্ড।

Check Also

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আত্মঘাতী  

কমল দত্ত,নদিয়া: নদীয়ার চাকদা থানার চুয়াডাংগা নেউলিয়ায় এক স্কুল ছাত্রীর বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.