Breaking News
Home >> Breaking News >> নৈহাটি থেকে ধৃত আন্ত রাজ্য কিডনি পাচারকারীর একটি দল

নৈহাটি থেকে ধৃত আন্ত রাজ্য কিডনি পাচারকারীর একটি দল

সৈকত গাঙ্গুলী,ব্যারাকপুর: এ যেন কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে বেড়িয়ে পড়ল। গতকাল উত্তর ২৪ পরগণার নৈহাটি থানার পুলিশ নৈহাটির মিত্র পাড়ায় বিশ্বজিৎ পালের বাড়িতে গিয়েছিল এক প্রতারণার অভিযোগের তদন্ত করতে। পুলিশ সূত্রে খবর বেশ কয়েকমাস আগে এই বিশ্বজিৎ পালের বাড়িতে নাকি জনা কয়েক যুবক ওনার ঘর ভাড়া নেয় একটি জব কনসালটেন্সি অফিস করবে বলে। কিন্তু সেখানে বেকার ছেলে মেয়েদের থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে আর চাকরি দেওয়া হতোনা। সেই বিষয়েই নৈহাটি থানায় কেউ বা কারা বিশ্বজিৎ পালের বাড়িতে অবস্থিত সেই জব কনসালটেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিল। গতকাল নৈহাটি থানার পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্বজিৎ পালের বাড়িতে যে জব কনসালটেন্সির অফিস আছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ গিয়ে দেখে যে জব কনসালটেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, তারা তাদের অফিস গুটিয়ে পগারপার। কিন্তু বিশ্বজিৎ পালের বাড়িতে নতুন কিছু ভাড়াটিয়া এসেছে, এবং পুলিশ দেখে তারা বেশ কিছুটা ভয়ে সিঁটিয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে।

নতুন ভাড়াটিয়াদের মধ্যে এহেন আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়, এবং সন্দেহের মাত্রা আরও বেড়ে যায় যখন পুলিশ জানতে পারে বিশ্বজিৎ পালের ওই ভাড়া দেওয়া ঘরে সেই মুহূর্তে উপস্থিত ৯ জনের মধ্যে সবার স্থায়ী ঠিকানা এক এক জায়গায়। কেউ মালদা তো কেউ আসাম, আবার কেউ বিহার ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায়। ঠিক তখনই পুলিশ চেপে ধরতেই পুলিশের সামনে যেন দুধের স্বাদ মাখনে মেটানোর পরিস্থিতি চলে আসে। পুলিশের জেরার মুখে এরা স্বীকার করে, এরা সবাই আন্ত রাজ্য কিডনি পাচারের সাথে যুক্ত। টাকার বিনিময়ে এরা গরীব মানুষের থেকে বেআইনিভাবে কিডনি কিনে সেগুলো বিক্রি করে দিত। উপস্থিত অফিসাররা তো শুনে থ! একি বলে? কিন্তু বাড়ির মালিক বিশ্বজিৎ পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তো যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি নাকি এসব ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তা বললে হয়? এত গুলো মানুষ তোমার বাড়িতে এসে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে থাকছে, আর তুমি এদের ব্যাপারে কিছুই জানোনা।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসিপি জোন ১ ডঃ কে কান্যান উপস্থিত হয়ে যান , এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার ডঃ রাজেশ কুমার সিং নিজে সম্পুর্ন ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে বাড়ির মালিক বিশ্বজিৎ পাল সহ এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে কিডনি দিতে আসা এক মহিলা সহ দুই যুবক এবং আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ধৃত ৯ জনকে ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে, ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখছে এই ঘটনার সাথে আর কে কে বা কোন নার্সিং হোম বা হাসপাতাল জড়িত আছে।

loading...

এছাড়াও চেক করুন

প্রচুর টাকার বিজ্ঞাপনের লোভ দেখিয়ে হিন্দুত্বের প্রচার ? স্টিং অপারেশনে তোলপাড় দেশ

স্টিং নিউজ সার্ভিসঃ আজ ২৬ মে  সংবাদ প্রতিদিনের ওয়েবসাইটে একটি খবর প্রকাশ হয়েছে, যা নিয়ে তোলপাড় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.