Breaking News
Home >> Breaking News >> ঝকমকে নতুন ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকলেই মহিলা কামরায় ওঠা নিয়ে ছোটাছুটি, ধাক্কাধাক্কি

ঝকমকে নতুন ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকলেই মহিলা কামরায় ওঠা নিয়ে ছোটাছুটি, ধাক্কাধাক্কি

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, হাওড়া: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়গপুর শাখায় সম্প্রতি যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লোকাল ট্রেন চালু করা হয়েছে। প্রধানত মহিলাদের জন্য রয়েছে এই ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থা। নিরাপত্তার কথা ভেবে মহিলা কামরায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া কামরার গুণগত মান অন্যান্য রেকের থেকে ভালো। তবে বাধ সেজেছে প্লাটফর্মে দাঁড়ানো নিয়ে।

রাতের দিকে মহিলা কামরায় পুরুষ যাত্রি উঠে পড়া নতুন কিছু নয়। এই ফাঁকে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা অনেক সময় রেলের কানে আসে। ধরপাকড় মাঝেমধ্যে হয় তবুও রাতের লোকালে মহিলা কামরা থেকে যায় অরক্ষিত। রেল এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে। সিদ্ধান্ত হয় এবার থেকে যে সমস্ত উন্নত মানের লোকাল ট্রেনের রেক আসবে তাতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকবে। সূত্রের খবর, এতে করে রেলের কাছে মহিলা কামরার তথ্য চলে আসবে প্রতিদিন। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীরা এই সমস্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পরছে সমস্যায়।

কি ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে ?

যাত্রীদের কথায়, দক্ষিন-পূর্ব রেলের বেশকিছু ট্রেন এখন ১২ কামরার তবে ৯ বগির লোকাল রয়েছে বেশি। পুরনো রেকে মহিলা কামরা চালকের দিকে দুটি কামরার পড়ে। সেইমত নিদিষ্ট জায়গায় মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকেন মহিলা কামরায় চড়বার জন্য। নতুন অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লোকাল কামরায় সামনের ও পিছনের দিকে দুটি কামরা করা হয়েছে মহিলাদের জন্য। সেক্ষেত্রে চালকের দিকে একটি কামরার পরেই রয়েছে মহিলা কামরা। প্লাটফর্মে ট্রেন আসার খবর মাইকে সম্প্রচার হবার সময় বলা হয় ডাউন লোকালটি বা আপ লোকালটি ১২ বগির বা ৯ বগির। সেইমত মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে নতুন লোকাল ট্রেন গুলি দাঁড়ায় এগিয়ে। ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকলেই শুরু হয় ছোটাছুটি। ধাক্কা খেয়ে কেউ কেউ পড়েও যাচ্ছেন।

রেল সূত্রে জানা গেছে প্রতিটা স্টেশনে নতুন লোকাল কোচের জন্য মহিলা কামরার জন্য বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং অসুবিধা হবার কথা নয়। তাহলে পুরনো কোচের ক্ষেত্রে কি হবে ? সেক্ষত্রে রেল সূত্রে জানা গেছে, তখন যাত্রীদের আগের মত জায়গায় তেই উঠতে হবে ট্রেনে। তবে দ্রুত এই সমস্যা মিটে যাবে।

২৪ ঘন্টা কাটেনি দেশের সেরার সেরা সন্মান মিলেছে হাওড়া স্টেশনে মুকুটে। প্রথম গ্রিন স্টেশনের শিরোপা পাওয়া হাওড়া স্টেশনের ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে জমা জল নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায় গত বছর নভেম্বর মাসে। এছাড়া মেট্রোর কাজ চলাকালীন ১৪ নম্বর প্লাটফর্মের সেডে ভেঙে পড়ে ক্রেন। যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে সেই সময় ওঠে প্রশ্ন তবুও মিলেছে সেরার শিরোপা। এহেন সিদ্ধান্তে খুশি প্রত্যেক যাত্রীর।

হাওড়া দিয়ে নিত্য যাত্রা করে আসা অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী শীতল চক্রবর্তীর কথায়, দীর্ঘদিন যাতাযাত করেছি হাওড়া স্টেশন দিয়ে। একটা সময় আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যে দিন চাকরি জীবন থেকে বিদায় নিলাম তার পরেও টানা একমাস যাতায়াত করেছি। পুরনো বিল্ডিং দিয়েই বেশি পার করেছি। আরও আগে এ সন্মান দেওয়া উচিত ছিল। তবুও আজ এসেছি আবারও ঘুরে দেখতে। এখন তো মেট্রোর কাজ চলছে যা শেষ পর্যায়ে। চালু হলে আরও চাপ বাড়বে তখন নিরাপত্তা আরও কঠিন করতে হবে।

মহিলা যাত্রী তপতী সরকারের কথায়, স্কুলের চাকরি করতে উত্তরপাড়া আসি। বাগনান থেকে উঠে চলে আসি হাওড়া, ওখান থেকে ট্রেনে চেপে উত্তরপাড়া। মহিলা কামরা বেড়েছে ভালো লাগছে তবে মাইকে যখন ঘোষণা করা হয় নতুন ট্রেন ও পুরণ ট্রেন বললে সুবিধা হয় ট্রেনে চড়তে। নয়ত হুড়োহুড়ি পরে যায়। তবে বলতে পারি নতুন ট্রেন গুলি বেশ ঝকমকে ও আরামদায়ক। আমরা টাকা দিয়ে মান্থিলি কাটি এই ধরনের পরিষেবা পাবার জন্যই তো ! তবে সাধারণ যাত্রীরা কতটা ব্যবহার করতে পারবে তাও দেখার আছে।

কু-ঝিকঝিক ট্রেনের শব্দ পাল্টে হুসহুস করে ছুটে চলেছে লোকাল ট্রেন। উন্নতমানের ডেকরেটিং, মাইকিং, সিসিটিভি ক্যামেরা, এলইডি লাইট সব দিক থেকে সম্পূর্ণ বদলে গেছে লোকাল ট্রেন। বাকি সমস্যাগুলো মিটে গেলেই যাত্রা মসৃণ হয়ে যাবে এমনটাই মত যাত্রীদের একাংশের।

এছাড়াও চেক করুন

তারা কোথায়?

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য,কলকাতা: গল্পের মোড় শুরু সম্প্রীতি সমলিঙ্গের একটি সম্পর্ক নিয়ে। এই নিয়ে একটি ছেলে ছেলেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.