Breaking News
Home >> Breaking News >> তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জের, আতঙ্কিত বাসিন্দারা আশ্রয় নিল বাংলাদেশে

তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জের, আতঙ্কিত বাসিন্দারা আশ্রয় নিল বাংলাদেশে

মনিরুল হক, স্টিং নিউজ করেসপনডেট, কোচবিহার : এবার রাজনৈতিক সন্ত্রাসের জেরে আতঙ্কিত হয়ে সীমান্ত গ্রাম দিনহাটার গীতালদহ থেকে ৯ টি পরিবার বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ওই ঘটনার জেরে কোচবিহার জেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব ওই ঘটনা স্বীকার করে নেয় নি। ছিটমহল আন্দোলনের নেতা তথা বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার অবজার্ভার দীপ্তিমান সেন গুপ্তর দাবী, বুধবার অর্থাৎ ১১ এপ্রিল রাতে গীতালদহের খারিজা হরিদাস খামার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আবু মিয়াঁ নামে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্য খুন হন। এরপরেই ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এরমধ্যে ৯ পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলায় আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন।
দীপ্তিমান বাবু বলেন, “এর আগে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকার ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম রাজনৈতিক হিংসায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ এদেশ থেকে গিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন। বিষয়টি কোচবিহার জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। আমরা চাই প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনুক এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা করুক।” তৃণমূল কংগ্রেসের দিনহাটা বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, “ এমন ঘটনার কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।” ওই ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে। তিনি বলেন, “ আমরা সব সময় সীমান্তে থাকা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছি। এমন ঘটনার কথা বিএসএফের পক্ষেও আমাদের জানানো হয় নি।”
প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা স্বীকার না করলেও খারিজা হরিদাস এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, ওই ঘটনার পর থেকেই অনেকেই আতঙ্কে এলাকা ছাড়া। এরমধ্যে খারিজা হরিদাস এলাকার বাসিন্দা ঘটনার দিন রাতেই দিনহাটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের (১২৯/৫ এস) আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরমধ্যে ফুলবাড়ি উপজেলার গোরকমগুলে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন সাহিদুল হক, আব্দুল হক, তার ছেলে সাহিন মিয়াঁ, বদরু মিয়াঁ, আব্দুল আজিজের স্ত্রী সফিয়া বিবি,খারিজা হরিদাস খামার জুনিয়র হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী পিংকি খাতুন, চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী আরবিনা খাতুন সহ অনেকেই। ওই এলাকার এক বাসিন্দা টেলিফোনে বলেন, “ ঘটনার পর আমরাও এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। দুদিন বাদে আবার এলাকায় ফিরে এসেছি। কিন্তু এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। আমার যে কোন সময় গণ্ডগোল ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই এখানকার বাসিন্দারাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।”

এছাড়াও চেক করুন

পিছিয়ে গেল রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন, নুতন করে আবার মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.