Breaking News
Home >> Breaking News >> আকন্দ আর গোলাপের লড়াইয়ে জমজমাট ফুলের বাজার

আকন্দ আর গোলাপের লড়াইয়ে জমজমাট ফুলের বাজার


প্রসূন ব্যানার্জী, পূর্ব মেদিনীপুর: বেশ কিছুদিন ধরে গোলাপ চাষিদের খুব একটা লক্ষী লাভ হচ্ছিলনা। এমনটাই ক্ষোভ চড়িয়েছিল গোলাপ চাষিরা।

ইটালিয়ান গোলাপ,মিনুপার্লে,ম্যাটগড,হাইব্রিট টি,ডাচ্ গোলাপ এখন বাজার ছেয়েছে বাংলার বাজারে।ডাচ্ বা ম্যাটগড প্রজাতির গোলাপ এখন পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কিছু কিছু চাষি শুরু করেছেন।তবে ইটালিয়ান গোলাপের আগের মতো জনপ্রিয়তা হারালেও বেশী করে চাষ শুরু হয়েছে মিনুপার্লে র।বিশেষ করে পাঁশকুড়া ব্লকের মাইশোরা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় এখন বিঘের পর বিঘে দিগন্তবিস্তৃত দেখা মিলবে মিনুপার্লের প্রজাতির গোলাপের চাষ।সারা বছর উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষ করছেন গোলাপ চাষিরা।গোলাপ চাষ একটা লাভজনক চাষ,তবে বিশেষ কিছু দিন থাকে যেই দিনগুলিকে কেন্দ্র করে চাষিরা লাভের মুখ অন্যান্য আর পাঁচটা দিনের থেকে অতিরিক্ত বেশীমূল্যে ফুল থেকে পয়সা পেয়ে থাকেন।গোলাপ চাষিদের কাছে প্রেম দিবস বা ভ্যালেনটাইন ডে এর মধ্যে অন্যতম।এই পাশ্চাত্য অনুকরনীয় দিনটি বর্তমান বাংলায় অত্যন্তই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।শুধু কোলকাতা কেন্দ্রক নয়,বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও ক্রমশই ভ্যালেনটাইন ডের অনুকরনীয়তা বেড়ে যাওয়ায় গ্রাম- শহর সর্বত্র ভ্যালেনটাইনের উপকরনীয় উপহারের চাহিদা বাড়ছে ক্রমশ।বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে গ্রিটিংস কার্ডের বিক্রি তলানিতে পৌছালেও, হয়াটস্অ্যাপ ফেসবুকের রমরমা বাজারেও তরতাজা গোলাপের বাজার কিন্তু কমেনি।বলাযেতেপারে বাজার ক্রমশই বাড়ছে।তবে ভ্যালেনটাইনের গোলাপের ক্ষেত্রে ডাচ্ গোলাপ এবং ম্যাটগড গোলাপের চাহিদা সবথেকে বেশী।মূলত ফুলের সাথে গোলাপ ফুলের সাথে লম্বা ডাঁটিযুক্ত ফুলের সবথেকে বেশীদাম বাজারে হয়েথাকে বিক্রেতারা।পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ব্লকে এবং পাঁশকুড়া ব্লকের কিছু কিছু চাষি এই সমস্ত গোলাপ চাষ পরিক্ষামূলক শুরু করেছেন।সাধারন সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট,দেউলিয়া,পাঁশকুড়া,গোঁসাইবেড় ফুলবাজারে ডাচ গোলাপ যেখানে আট থেকে দশটাকার মধ্যে দাম ঘোরাঘুরি করে,সেখানে ভ্যালেনটাইনের সময় বিক্রি হয় কুড়ি থেকে পঁচিশ টাকা পর্যন্ত। আবার মিনুপার্লে বা ম্যাটগড গোলাপ যেখানে বছরের অন্যান্য সময় দুটাকা থেকে পাঁচটাকার মধ্যে বাজারে ক্রেতারা হাতে পান,সেই গোলাপ এই প্রেম দিবসের বিশেষ দিনে দশ থেকে বারোটাকায় গোলাপ বিক্রেতারা বিক্রয় করে থাকেন।যার ফলে গোলাপ চাষিরা এই বিশেষ দিনটির উপর আশায় থাকেন,কারন একটু বেশী লক্ষীলাভের আশায়।কোলাঘাট ব্লকের পদুমপুর গ্রামের ডাচ গোলাপ চাষি মনোজ পাড়ুই জানান,তার একবিঘে ডাচ গোলাপের চাষ রয়েছে,তবে সারা বছর ফুলের থেকে ভালই মুনাফা পেয়ে থাকলেও ভ্যালেনটাইন ডের দিনটির জন্য অন্যান্য গোলাপ চাষির মতো আাশায় থাকি।কারন এই ফুল কোলকাতার মল্লিকঘাটে বিক্রি যেখানে নয়- দশ টাকায় বিক্রি হয় গত দুদিন আগে থেকেই গোলাপের দাম চড়া হতে শুরু করে।মঙ্গলবার বাজারে পনেরো টাকা প্রতিপিশ বিক্রি করেছেন।একবিঘে জমি থেকে দুদিনে দশ হাজারটাকারও বেশী মূল্যের ফুল বাজারজাত করেছেন।পাশাপাশি পাঁশকুড়া এলাকার বহু ফুলচাষিরাও এখন খুশি।বহুদিন পাঁশকুড়া ফুলবাজারের হিমঘরটি বন্ধ থাকার পর দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে পুনরায় ফুলের হিমঘরটিতে ফুল সংরক্ষন শুরু হওয়ায় বেশকিছু ফুলচাষি প্রায় আট- দশদিন আগে থেকেই অতিরিক্ত মুনাফার জন্য হিমঘরে ফুল সংরক্ষন করে রাখার ফলে ভ্যালেনটাইনের গোলাপের বাজার ভালোই পেয়েছেন।পাঁশকুড়ার মাইশোরা গ্রামের গোলাপ চাষি কৃষ্ন প্রসাদ মন্ডল জানান,পাঁশকুড়ার এই হিমঘর চালু হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে হিমঘরে ফুল সংরক্ষন করে রেখেছিলাম।মঙ্গলবার তা কোলাঘাট ফুলবাজারেএকসাথে অনেক ফুল বিক্রিকরে মোটাঅংকের টাকা পেয়েছি বলে জানান কৃষ্ণবাবু।তবে ভ্যালেনটাইনস ডের সাথে একই দিনে শিবরাত্রি পড়ে যাওয়ায় আকন্দ ফুলেরও ব্যপক দামে বিক্রি চলছে জেলার ফুলবাজার গুলিতে।দেউলিয়া ফুলবাজারের এক ফুলবিক্রেতা জানান,একদিকে যেমন গোলাপের চড়া বাজার পাশাপাশি একইদিনে শিবরাত্রি থাকায় আকন্দ ফুলের মালাও চড়া দামে বিক্রি চলছে।তিনি জানান,আকন্দের মালা যেখানে তিন- চার টাকায় বিক্রি হয় সেখানে আজ প্রতিমালা কুড়ি থেকে পঁচিশটাকায় বিক্রি হচ্ছে আকন্দের মালা।ফলে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী একদিকে যেমন ভ্যালেনটাইন ডে আবার অন্যদিকে শিবরাত্রি। ফলে ফুলের বাজারে গোলাপ এবং আকন্দ ফুলের বাজার এখন রীতিমতোই আগুন।রসিক বাঙালির কাছে এখন একটাই প্রশ্ন ভ্যালেনটাইনের গোলাপ না স্বামীর পূন্যের জন্য শিবরাত্রির আকন্দ কোনটার বাজার বেশি সেই দিকেই তাকিয়ে।

Check Also

কুশমণ্ডির নির্যাতিতার সঙ্গে  দেখা করলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, মালদাঃ কালই জেলা সফরে এসে মালদহ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.