Breaking News
Home >> Breaking News >> টোটা চালিয়ে বাবার ওষুধ কিনে ফেরা হল না চাপড়ার ইমরানের

টোটা চালিয়ে বাবার ওষুধ কিনে ফেরা হল না চাপড়ার ইমরানের

সমীর রুদ্র, স্টিং নিউজ, চাপড়া, নদিয়া: বাড়ির মেঝেতে বসে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে বাবা।ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। এক বছর আগের দূর্ঘটনার কথা আজও ভুলতে পারেনি গোলাম মোস্তফা।সেদিনের আতঙ্কের ছাপ চোখে মুখে। শরীরটা অসাড় মেরে গেছে।” অভাবের সংসারে খাবার জোটাতে বেগ পেতে হচ্ছে। এদিকে আবার ছেলে ইমরান মল্লিক স্থানীয় হুদা বিদ্যাপীঠের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। তার পড়াশুনো অর্থের অভাবে বন্ধের মুখে। ” বলে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। কিছুক্ষণ পরে ” আল্লাহ.. কেন আমায় এত বড় শাস্তি দিলে? এখন আমি বা আমার স্ত্রী কি করবো? কি নিয়ে বাঁচবো?কে আমাদের দেখবে?” আকাশের দিকে মুখ তুলে দু, হাত জোড় করে কথা গুলি কেঁদে কেঁদে বলে চলেছেন নদিয়ার চাপড়া থানার তালুকহুদা গ্রামের গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফার কথাগুলি শুনে তখন কাঁদছে পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনও। বাড়ি গিয়ে দেখা গেল সত্যিই করুণ দশা। ভাঙা বাড়ির আনাচে কানাচে অভাবের তাড়না যেন কথা বলছে। শুক্রবার চাপড়ায় লরি-টোটো মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ৭ জনের মধ্যে এই বাড়ির ছেলেটিই ছিল টোটো চালক । বয়স মেরেকেটে ১৫ বছর।

“বাবাকে সুস্থ করে তুলতেই হবে আর তার নিজের পড়াশুনোর খরচ জোটাতে হবে। পড়াটা চালিয়ে বড় চাকরী পেলে অভাব থাকবে না।প্রায়ই বলত ছেলেটা।” জানান মৃত ইমরানের সম্পর্কে এক চাচা।

স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম নিত না চাপড়ার দূর্ঘটনায় মৃত ছেলেটি। কয়েকটি রেফারেন্স বই কিনতে বাকী ছিল। ফুরিয়ে গিয়েছিল বাবার ওষুধ। তার উপর লোনের টাকার কিস্তি প্রতি সপ্তাহে। তাই টোটো নিয়ে অন্য দিনের মতো শুক্রবার বিকালেও বের হয়েছিল টোটো নিয়ে।

এক বছর আগে ইমরানের পিতা গোলাম মোস্তফা দুর্ঘটনায় আহত হয়। তখন থেকেই বিছানায় পড়ে রয়েছে। কোথাও যেতে পারেন না।মা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যা। সংসারের হাল ধরতে ইমরানের মা তাহিনা মল্লিক লোন নিয়ে টোটো গাড়িটি কিনে দিয়েছিল ইমরানকে।

কিন্তু টোটো চালাতে গিয়ে আর ফিরে এলো না ইমরান।শুক্রবার রাতে একটি ভাড়া হয়েছিল। পাশের একটি গ্রামে টোটো চেপে ইসলামিক জলসা শুনতে যাচ্ছিল জনা দশেক নারী পুরুষ। তাদের মধ্যে এক শিশুও ছিল। হাঁটরার কাছে একটি লরি টোটো গাড়িটি ধাক্কা দিলে ইমরান সহ ৭ জন মারা যায়।

দূর্ঘটনার খবর শোনা মাত্রই ইমরানের মা অজ্ঞান হয়ে যান। তার এক মাত্র ছেলে বাবার ওষুধ কিনবে বলে বের হয়ে আর ফিরল না।ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছে ইমরানের মা তাহিনা মল্লিক।কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছে না।সেই যে ছেলে গেল আর ফিরল না।মর্মান্তিক পথ দূর্ঘটনায় ইমরানের মৃত্যু নাড়িয়ে দিল এলাকার মানুষের মন। তার মৃত্যুতে চাপড়ার আকাশ বাতাসে কান্নার প্রতিধ্বনি। রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে, বাড়ির রোয়াকে ছলছলে চোখের সমাহার।

Check Also

মালদার বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত বি এস এফ-র ২৪ নং ব্যাটালিয়ানের জাওয়ানের হাতে আটক আগ্নেয়াস্ত্র সহ ২ ব্যক্তি

বিশ্বজিৎ মন্ডল, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, মালদাঃ মালদার জেলার বৈষ্ণবনগর থানার সবদলপুরের হটাতপাড়া গ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র সহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.