Breaking News
Home >> Breaking News >> ছাত্র ছাত্রী ধরে রাখতে পাঠ দিচ্ছে গ্রামের তিন জন বাসিন্দা

ছাত্র ছাত্রী ধরে রাখতে পাঠ দিচ্ছে গ্রামের তিন জন বাসিন্দা

স্টিং নিউজ সার্ভিস, সাগরদিঘী:গ্রামেরই স্কুল,ছাত্র ছাত্রীরাও গ্রামেরই।কিন্তু যদি পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকে তাহলে পঠন পাঠনে ব্যাঘাত ঘটবে।স্কুলে ছাত্র ছাত্রীরা ভর্তি হবে না।উঠে যেতে পারে গ্রামের সম্পদ সেই কথা বিবেচনা করে গ্রামেরই তিনজন বাসিন্দা স্বেচ্ছায় ২০১৪ সাল থেকে পঠন পাঠনে সাহায্য করছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘীর দস্তুরহাট জুনিয়ার হাইস্কুলে স্বেচ্ছায় মহম্মদ ইরফান আলি,সারাফৎ সেখ ও আব্দুল আজিজ রুটিন মাফিক নিজেদের কাজ সামলে ক্লাস নিচ্ছেন।
স্কুল সূত্রে জানাগেছে ২০০৮ সালে দস্তুরহাট জুনিয়র হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।২০০৯ সালে এসএসসির মাধ্যমে তিনজন শিক্ষক আসেন।কিন্তু ২০১৩ সালে দু,জন বদলি নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যান।বর্তমান টিচার ইনচার্জ তথা স্কুলের একমাত্র স্থায়ী শিক্ষক বাসুদেব পাল থেকে যান স্কুলে।সেই সাথে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সনাতন ঘোষ নামে একজন রিটায়ার্ড স্কুল শিক্ষক স্কুলে যোগ দিয়েছেন। স্কুলের টিচার ইনচার্জ বাসুদেব পাল বলেন” স্কুলে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ১৯২ জন। ২০১৩ সালে অন্য দুই জন শিক্ষক চলে যাওয়ায় আমি একা হয়ে যাই।স্কুলে কেউ ভর্তি হতে চাইছিল না।গ্রামের মানুষ চিন্তায় পড়েন।তাই অলিখিত ভাবে মানে খাতায় কলমে কোন জয়েন নেই।স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইরফান আলি,সারাফৎ সেখ ও আব্দুল আজিজ পড়াচ্ছেন। আমি একা ছিলাম।ছাত্র ছাত্রী অনেক ছিল অন্যত্র চলে যাবে, স্কুলটায় অসুবিধা হবে তাই উনারা ছাত্র ছাত্রীদের ধরে রাখার জন্য,শিক্ষাকে ভালবাসার জন্য স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে।সপ্তাহে তিন দিন বা চার দিন রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেন।সারাফৎ সেখ ভূগোল,আব্দুল আজিজ ইংরেজি ও ইরফান আলি বিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস নেন।

স্বেচ্ছায় শ্রম দেওয়া শিক্ষক ইরফান আলি জানান” বাড়িতে জমি জায়গা আছে চাকরীর জন্য পড়ায়নি আমার বয়স হয়েছে শিক্ষাকে ভালবেসে, স্কুলটা উঠে যাবে  তাই আমি ক্লাস নিই।আমরা স্থায়ী শিক্ষক চাই,আমার বয়স হওয়ায় আর কত দিন থাকব।বাকী শিক্ষকদের বয়স অল্প ওরা অন্যত্র কাজে লেগে গেলে কি হবে।স্কুলটা আমাদের । আমাদের ছেলে মেয়েরাই ভুক্তভোগী। “অন্য একজন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক সারাফৎ সেখের মতে “ভালবেসে পড়াচ্ছি,ছাত্র ছাত্রী ভর্তি না হলে স্কুলটা উঠে যাবে আমাদের গ্রামেরই সম্পদ। ”

দস্তুরহাট জুনিয়র হাইস্কুল সম্পর্কে গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী সেলিম দুরানী বলেন” শিক্ষক না থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের ধরে রাখতে গ্রামের কথা ভেবে তিন জন বিনা পারিশ্রমিকে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে।ওরা দারুণ খাটছে দরদ দিয়ে পড়াচ্ছে, বর্তমানে রেজাল্টও ভাল হচ্ছে। আর এখন একজন স্থায়ী শিক্ষক ছাড়া অন্য একজন গেস্ট টিচার সনাতন ঘোষের ছাত্র ঐ তিন জন।ওরাই সনাতন স্যরকে গেস্ট টিচার হিসাবে পড়ানোর অনুরোধ করেন।উনারা বুঝিয়ে রাজী করান।”নিজেদের গ্রামের স্কুল, গ্রামের শিক্ষার কথা মাথায় রেখে   পড়ানোর পাশাপাশি স্কুলের স্পোর্টস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন, বিভিন্ন ফর্ম ফিলাপ স্বেচ্ছায় নিরন্তর ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন ইরফান আলি,সারাফৎ সেখ,আব্দুল আজিজদের মতো শিক্ষানুরাগীরা।

Check Also

বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস ২নং ফাঁসিদেওয়া ব্লক সম্মেলন

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিং: শিলিগুড়ির মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.