Breaking News
Home >> Breaking News >> দীর্ঘ ২৭ বছর মামলা চলার পর মুক্ত হলেন ডেপুটি মেয়র মিনতি অধিকারী সহ মোট ৮ জন

দীর্ঘ ২৭ বছর মামলা চলার পর মুক্ত হলেন ডেপুটি মেয়র মিনতি অধিকারী সহ মোট ৮ জন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপন্ডেন্ট  হাওড়া :দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চলতে থাকা একটি মামলায় অবশেষে মুক্তি পেলেন হাওড়া পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মিনতি অধিকারী সহ মোট ৮ জন।
এত বছরে ভাগীরথী দিয়ে বহু কিউসেক জল যেমন গড়িয়েছে সেদিনের কংগ্রেস নেত্রী থেকে এখনকার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে হাওড়া পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র হয়েছেন। বহু পথ চলার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও একটি মামলা চলছিল সঙ্গে সঙ্গে। মঙ্গলবার ওই মামলার রায় ঘোষণা হয়। হাওড়া জেলা আদালতের ফাস্ট ট্রাক থার্ড কোর্টের বিচারক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে।
ঠিক কি ছিল সেই মামলা। 
২৭ বছর আগের কথা। ১৯৯০ সালের ১ আগস্ট বাসভাড়া, দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি সহ একাধিক বিষয় নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিল জাতীয় কংগ্রেস। ওই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় নেত্রী বিমলা দের। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল পুলিশের দিকে। বিনা প্ররোচণায় আন্দোলনকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠি ও গুলি চালায় বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় তৎকালীন বাম সরকারের নির্দেশে পুলিশ পাল্টা হিসাবে আন্দোলনকারী তথা ঘটনায় মুল অভিযুক্ত তৎকালীন কংগ্রেস নেত্রী ও বর্তমানে হাওড়া পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মিনতি অধিকারী সহ মোট ৮ জনের রিরুদ্ধে গোলাবাড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে চলতে থাকে মামলা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে সরকারের। সেদিনের কংগ্রেস নেত্রী মিনতি অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূলে চলে আসেন। দীর্ঘ ২৭ বছর চলা এই মামলার ইতি টানল মঙ্গলবারের রায় ঘোষণায়। হাওড়া জেলা আদালতের ফাস্ট ট্রাক থার্ড কোর্টের বিচারক সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে। তৎকালীন পুলিশ কর্মী সহ মোট ১২ জনের স্বাক্ষী গ্রহণের পর অভিযুক্ত মিনতি অধিকারি সহ ৮ জনকে বেকসূর খালাস করলেন বিচারক। এই মামলার ওভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবি সমীর রায় চৌধুরী জানান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের নামে মিথ্যা মামলা করেছিল পুলিশ। এমনকি বিচারক নিজেও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন। এমনকি পরিকল্পিতভাবে গুলি করে খুনের ঘটনার কোন মামলা করতে না দেওয়া নিয়েও অভিযোগ করেন সরকারি আইনজীবি রবীন কর্মকার। 
এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ডানকুনির প্রদীপ দত্তকে ২১ দিন আগে পুলিশ হেফাজতে নেয়। অপর অভিযুক্ত পবন দেব পাল মামলা চলাকালীন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন।
মিনতি দেবী জানান এই রায়ে খুশি হলেও বিমলা দেবীর খুনের অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা সাজা না পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই যাবে। আগামী বছর ১ আগস্ট বিমলা দেবীর স্মরণে যে আন্দোলন কর্মসুচী পালন করা হবে তা আলাদা একটি মাত্রা এনে দেবে এই রায়।

Check Also

বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস ২নং ফাঁসিদেওয়া ব্লক সম্মেলন

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিং: শিলিগুড়ির মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.