Breaking News
Home >> Breaking News >> অভিনব কায়দায় প্রায় ৩ কেজি সোনা সহ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক প্রতারণা, আকুতি সোশ্যাল মিডিয়ায় 

অভিনব কায়দায় প্রায় ৩ কেজি সোনা সহ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক প্রতারণা, আকুতি সোশ্যাল মিডিয়ায় 



কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ হাওড়া:  অভিনব স্বর্ণ ও আর্থিক প্রতারণা। প্রতারককে ধরতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে শতাধিক প্রতারিত। সাকুল্যে হাতে রয়েছে একটি ছবি ও এলাকায় একটি বন্ধ ছোট দোকান। ওইটুকু তথ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও কখনও পুলিশ তো কখনও পরিচিত বন্ধু স্বজনদের কাছে হন্যে হয়ে ঘুরছে ছোটবড় শতাধিক স্বর্ণ দোকানদার।

হাওড়া ডোমজুড় এলাকা প্রধানত স্বর্ণকারদের পীঠস্থান। হাতের কাজের মাপকাঠির উপর ভর করে হাজার-হাজার স্বর্ণ কারিগর এখান থেকেই পৌঁছেছে সাগর পাড়ের মুম্বই থেকে বিস্ময় নগরী দুবাই। এই নাম-যশ-খ্যাতির দৌলতে এলাকায় প্রবেশ করেছে বেশ কিছু অসাধু কারবারি। তাদের ছলে-বলে ও চতুরতায় ঠকছে বহু ছোট-বড় ব্যাবসায়ী। জমা পড়ছে একের পর একএক অভিযোগ ডোমজুড় থানায়।  

এবার এমনি এক অভিনব স্বর্ণ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে হাওড়া ডোমজুড়ে। মাসখানেক আগেও ডোমজুড় এলাকায় বেশ জমিয়ে সোনার রিপেয়ারিং ও গহনা বানাবার কাজ করছিলেন আদপে তমলুকের বাসিন্দা পেশায় স্বর্ণশিল্পী অলোক ভৌমিক। অতি সাধারণ চেহারার যুবককে বিশ্বাস করতে দু’বার ভাবেনি কোন কারবারি। তাছাড়া এলাকায় সোনা অগ্রিম জমা নিয়ে কাজ করে গহনা বানিয়ে দেওয়াটাই দস্তুর। একি পদ্ধতিতে এলাকার প্রায় শতাধিক কারবারির কাছ থেকে সোনা জোগাড় করে কাজ করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে স্বর্ণশিল্পী অলোক ভৌমিক। প্রতিশ্রুতি মত গহনা তৈরি করে ফিরিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুড়ি দিন হতে চলল দোকানে তালা ঝুলিয়ে গায়েব হয়ে গিয়েছে।

খবর জানাজানি হতেই ভিড় করে শতাধিক কারবারি। হিসাব কষে দেখা যায় আনুমানিক ২-৩ কেজি সোনা ও লক্ষাধিকের উপর টাকা নিয়ে গায়েব হয়েছে গুণধর স্বর্ণশিল্পী অলোক ভৌমিক। মোবাইল নম্বরে ফোন করলে অনবরত সুইজ স্টপ বলতে থাকে। খোঁজখবর নেবার মত অন্য কোন নাম্বার না থাকায় সোশ্যাল মিডিয়ায় হানা দেয় যুবক সমাজ। পেয়ে যায় ছবি। ওই ছবি নিয়ে সকলে একত্র হয়ে ডোমজুড় থানায় দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ।

ছবি সহ একটি অভিযোগ পথ ফেসবুকে ছাড়া হয়। বলা হয় যতটা সম্ভব শেয়ার করতে। ফেসবুক ব্যবহারকারী ও প্রতারিত স্বর্ণশিল্পী হরি কুন্ডুর কথায়, “অলোক ভৌমিক-এর ডোমজুড়ে একটি সোনার দোকান রয়েছে। সোনার কাজ করবার সুবাদে ডোমজুড়ের অনেক সাধারণ মানুষের আনুমানিক ২-৩ কেজি সোনা এবং টাকা ওর কাছে আছে। গত মাসের ১৭ তারিখ রাত্রি থেকে নিখোঁজ। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবুও আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর ছবি সমেত বিবরণ দিয়েছি যদি ওকে খুঁজে পাওয়া যায়।”

নোটবন্দি ও জিএসটির চাপে কাজ হারিয়েছে বহু স্বর্ণ কারিগর। তার পর এই ঘটনা ঘটে যাওয়ায় বড় দোকানগুলি ছোট ব্যবসায়ী এবং কারিগরদের কাজের বরাত দিতে হাজারো নিয়ম নীতি চালু করতে চাইছে। ফলে এখন কাজ সঙ্কটে বহু স্বর্ণশিল্পী। বাধ্য হয়ে পুলিশ, সোশ্যাল মিডিয়াকে আঁকড়ে অভিযুক্তের কাছে পৌঁছতে চাইছে প্রতারিত স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা। 

Check Also

বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস ২নং ফাঁসিদেওয়া ব্লক সম্মেলন

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিং: শিলিগুড়ির মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.