Breaking News
Home >> Breaking News >> আর দার্জিলিং নয় এবার উত্তর দিনাজপুরেই মিলবে কমলালেবু

আর দার্জিলিং নয় এবার উত্তর দিনাজপুরেই মিলবে কমলালেবু

পিয়া গুপ্তা , স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, উত্তর দিনাজপুর: আর কিছু দিনের মধ্যে শীত পড়তে চলেছে রাজ্যে ।শীতের পারদ ক্রমশই নামছে।শীত মানেই বিভিন্ন রকমারি সবজি ও ফল এর বাহার।আর শীত মানেই কমলালেবু জন্য আনচান মন।ছোটবেলায় সেই ক্রিডা প্রতিযোগিতা হোক কিংবা মিঠে কডা রোদে বসে পিকনিক ।কমলালেবুর অবাধ বিচরণ সর্বত্র ।

প্রতিবছর কমলালেবুর জন্য বাঙালির ভরসা দার্জিলিঙ কিংবা সিকিম। তবে এবার থেকে আর শুধু দার্জিলিঙে নয বাংলার আরও এক জেলাতেও সফল হল কমলা চাষ।
সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়ার বেলন গ্রামেই চাষ শুরু হয়েছে কমলালেবুর। সম্পূর্ন জৈব পদ্ধতিতে কমলালেবুর চাষ করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন চাকুলিয়া ব্লকের বেলন গ্রামপঞ্চায়েতের গোহারা গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ ইমাজুদ্দিন। চলতি বছরে তাঁর ফলানো এই কমলালেবু শিলিগুড়ির বাজারে দার্জিলিং ও সিকিমের লেবুর সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিযোগিতায় নামছে।এলাকার চাষিরাও এবার থেকে কমলালেবু চাষ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছেন। প্রবীণ এই কৃষকের উদ্যোগ উদ্যানপালন বিভাগ থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের কর্তাদেরও তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

মহম্মদ ইমাজউদ্দিন জানান বছর তিন-চারেক আগে দার্জিলিং বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর পাঁচজন পর্যটকের মতোই
কমলালেবুর বাগান দেখার তাঁর দীর্ঘদিনের শখ।
দার্জিলিঙ ঘুরতে গিয়ে স্থানীয় একটি কমলালেবুর বাগান দেখতে যান তিনি। বাগান দেখে নিজের একটি কমলালেবুর বাগান করার ইচ্ছে হয় তাঁর। সেখান থেকে তিনি নিয়ে আসেন কমলালেবুর চারাগাছ। ধান চাষ বাদ দিয়ে ইমাজুদ্দিন তাঁর নিজের জমিতেই শুরু করেন কমলালেবুর চাষ।
সমতলের কমলার রূপ-স্বাদও দার্জিলিঙের কমলার মতোই।
প্রথম বছর দু’টি কমলালেবুর গাছ বাঁচিয়ে তুলতে তিনি সক্ষম হন। তাতে ফলনও হয়। পরিবারের সদস্যরা সেই কমলালেবু খেয়ে রীতীমতো তাজ্জব হয়ে যান।ওই কমলালেবুগুলি স্বাদে বাজারের কিনতে পাওয়া কমলালেবুর মতোই। ফলে তিনি বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরের বছর থেকে নিজের প্রায় বিঘে খানেক জমিতে একশোটির বেশি গাছ লাগিয়ে এই চাষ শুরু করা হয়।
মহম্মদ ইমাজুদ্দিন জানিয়েছেন, ‘‘কমলালেবু চাষ করার বিষয়ে আমার কোনও অভিজ্ঞতা ছিল না। ফলে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতেই আমি এই চাষ শুরু করি। এই চাষের ক্ষেত্রে কী রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হ্য়, তা জানা ছিল না। সেই কারণে গোবর সার ব্যবহার করেছি। এই বছর প্রচুর ফলন হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে মহাজন এসে কমলার স্বাদ পরীক্ষা করে সম্পূর্ন বাগান কিনে নিয়েছেন। দার্জিলিঙের কমলার রেটে আমার বাগানের কমলার দাম পেয়েছি। আমার আরও কিছু জমি রয়েছে। সামনের বছরে ওই জমিতেও কমলার চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সাহায্য পেলে সুবিধে হতো।’’

এদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলা শাসক আয়েশা রানী জানান ,জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় এক চাষীর এই ধরনের ভূমিকায় তিনি অত্যন্ত খুশি।আগামী দিনে ঐ চাষী যাতে কমলালেবুর চাষে আরো বেশী উত্সাহিত হন তার জন্য তিনি প্রশিক্ষণ থেকে ঋণের ও ব্যাবস্থা করবেন বলে তিনি জানান।তাই শীতের আমেজে জেলার উত্পাদিত কমলালেবুর স্বাদ এবার জেলা বাসী যে পাবে তা নিঃসনেদহে বলা যেতে পারে।

Check Also

বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস ২নং ফাঁসিদেওয়া ব্লক সম্মেলন

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিং: শিলিগুড়ির মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরে অনুষ্ঠিত হল দার্জিলিং জেলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.