Breaking News
Home >> Breaking News >> ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব এক করে দিল দুই বাংলাকে

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব এক করে দিল দুই বাংলাকে

স্টিং নিউজ সার্ভিস: আয়োজক “উদার আকাশ” ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব ২০১৭-র উদ্যোগে বিশেষ সম্মাননা পেলেন প্রখ্যাত সংগীতকার কবীর সুমন ও বাংলাদেশের দু’শতাধিক বইয়ের লেখক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ-সহ দুই বাংলার কয়েকজন সাহিত্যিক, সমাজসেবী ও সংস্কৃতি-কর্মী।
পশ্চিম বাংলার “উদার আকাশ” নিবেদিত এই মৈত্রী উৎসবে “উদার আকাশ আজীবন সম্মাননা ২০১৭” পেলেন বাংলাদেশ লেখক-পরিষদের সভাপতি ও বহুমাত্রিক লেখক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ। কলকাতার (আইসিসিআর) সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে ১৪ নভেম্বর বিকাল ৫টায় এই উৎসবের শুভ সূচনা করলেন প্রখ্যাত সংগীতকার কবীর সুমন-সহ রাজ্যের মাননীয় মন্ত্রী জাকির হোসেন, শ্রম-বিভাগ। উপস্থিত ছিলেন ড. আবদুস সাত্তার, অধ্যাপক ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, আহমদ হাসান ইমরান, সাংসদ ও সম্পাদক, ‘কলম’, মো: নিজাম শামিম, আই পি এস ও সমাজসেবী, মইনুল হাসান, প্রাক্তন সাংসদ ও বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক। পশ্চিম বাংলা থেকে প্রখ্যাত সংগীতকার ও প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমনকে “উদার আকাশ গৌরকিশোর ঘোষ স্মৃতি সম্মাননা ২০১৭” প্রদান করা হল।

গৌরকিশোর ঘোষ প্রখ্যাত সাহিত্যিক, পশ্চিমবাংলার সাংবাদিকদের অন্যতম পথপ্রদর্শক ও সম্প্রীতি রক্ষার জন্য দক্ষ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। আজীবন লিখে গিয়েছিলেন মানুষের কল্যাণে। পিছিয়ে রাখা সম্প্রদায়কে মর্যাদার আসনে তুলে আনতে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামও করেছেন প্রতিনিয়ত। সেই গৌরকিশোর ঘোষের নামে “উদার আকাশ” চালু করছে এই প্রথম ও বিরল সম্মাননা। বাংলার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য রক্ষার জন্য প্রখ্যাত সংগীতকার ও প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমন গৌরকিশোর ঘোষের প্রকৃত উত্তরসুরি, তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়ার শুভ প্রয়াস “উদার আকাশ” সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনকে প্রাণিত করবে বলে জানান, সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

সমাজসংস্কার ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সমাজসেবী হিসাবে ড. আবদুস সাত্তার, অধ্যাপক ও প্রাক্তন মন্ত্রী, মো: নিজাম শাশিম, আই পি এস ও সমাজসেবী, আহমদ হাসান ইমরান, সাংসদ ও সম্পাদক ‘কলম’, এম এ ওহাব, ডিরেক্টর শিস্, নীতাশা বিশ্বাস ভারত সুন্দরী, সমাজসেবায় সম্মানিত হলেন। এই বিভাগে আরও যাঁরা সম্মানিত হলেন তাঁরা হলেন মাননীয় জাহাঙ্গীর আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবী, সামশুল আলাম, সমাজসেবী ও সাহিত্যিক, মাননীয় রফিকুল ইসলাম, রক্তদান আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা ও সমাজসেবী, ডা: মো: আবেদ আলি, সমাজসেবী ও লেখক, মাননীয় খোকন মিয়া, সমাজসেবী, মাননীয় পার্থ নিয়োগী, সমাজকর্মী।

সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে উদার আকাশ ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা পেলেন, মাননীয় জয়ন্ত দে, সাহিত্যিক ও সম্পাদক সাপ্তাহিক বর্তমান, মাননীয় মো: জহিরুল ইসলাম খোকন, সম্পাদক, অবাক পৃথিবী, বাংলাদেশ, মাননীয় এমদাদুল হক নূর সম্পাদক, নতুন গতি, মাননীয় সমীর কুমার দাস, সম্পাদক, আওয়ার ভয়েস, মাননীয় রফিকুল আনোয়ার, সম্পাদক, নোয়াখালী প্রতিদিন, বাংলাদেশ, মাননীয়া সাহানা নাগ চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মাননীয় সুব্রত নাগ চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মাননীয় কাজী গোলাম গউস সিদ্দিকী, প্রাক্তন সাংবাদিক, আনন্দবাজার পত্রিকা, মাননীয় আয়ুব আলি, বিশিষ্ট সাংবাদিক।

সংগীতের জন্য মৈত্রী সম্মাননা পেলেন, মাননীয়া কল্যাণী কাজী, মাননীয়া নূপুর কাজী ও আনিসা বিনতে আবদল্লাহ্, সংগীত শিল্পী, বাংলাদেশ।

সাহিত্যের জন্য মনোনীত হয়েছেন, মাননীয় আবদুর রাকিব, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, মাননীয় আবদুর রব খান, কবি ও সাহিত্যিক, মাননীয় আনসার উল হক, শিশুসাহিত্যিক, মাননীয় ওয়ালে মহাম্মদ, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক,
মাননীয় লালমিয়া মোল্লা, কবি ও সাহিত্যিক,
মাননীয় ড. রাসবিহারী দত্ত, শিশুসাহিত্যিক, মাননীয় রফিকুল হাসান, বিশিষ্ট কবি।

শিক্ষাবিদ হিসেবে সম্মাননা পেলেন, মাননীয় ড. গৌতম পাল, অধ্যাপক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, ড. প্রকাশচন্দ্র পট্টনায়ক, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ড. আমিনা খাতুন, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, ড. শিবুকান্ত বর্মন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, মাননীয় দীপক দাস, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নাফিসা পারভিন, অধ্যাপিকা ও সমাজকর্মী আসানসোল গার্লস কলেজ।

আর্ট ক্যাম্পে আয়োজন সকলকেই মুগ্ধ করে। চিত্রকরদের মধ্যে মাননীয় অজয় সান্ন্যাল, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, বাংলাদেশ, মাননীয় মৃনাল বনিক, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, বাংলাদেশ,
মাননীয় সাত্ত্বিক বিশ্বাস, শিশু চিত্রশিল্পী, মাননীয় শ্রীমহাদেব, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী,
মাননীয় সারফুদ্দিন আহমেদ বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পেলেন ড. পিনাকী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।

ড. শিবুকান্ত বর্মন রচিত গবেষণা গ্রন্থ “মহাশ্বেতা দেবী গল্পবিশ্ব : লৈঙ্গক প্রতিরোধ” এবং তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ “অন্য মহাশ্বেতা সমালোচকের দর্পণে” উদার আকাশ প্রকাশনের এই নতুন বই দুটির প্রকাশ করলেন, সাহিত্যিক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ ও সংগীতকার কবীর সুমন, অধ্যাপিকা ড. আমিনা খাতুন, অধ্যাপক ড. প্রকাশচন্দ্র পট্টনায়কসহ সকলেই।

সমগ্র প্রোগ্রাম সুচারু ভাষায় পরিচালনা করলেন, সূর্পণা মজুমদার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করলেন, শুভ্রা সেনগুপ্ত, সাদেকুল করিম, মৌসুমী হোসেন, বহিৃশিখা গোস্বামী প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করলেন নৃত্যজা, ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত, সুমন দাস। সংগীত পরিবেশন করলেন আনিসা বিনতে আবদুল্লাহ্, বাংলাদেশ, তীর্থ বিশ্বাস, মধুশ্রী হাতিয়াল ও সোমঋতা মল্লিক, কলকাতা। এছাড়াও আবৃত্তির দল ছিল সেন্টার স্টেজ এদের সকলকেই উদার আকাশ মৈত্রী সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বিশিষ্ট কয়েকজনকেও ” উদার আকাশ ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা” তুলে দেওয়া হল। ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসবের আয়োজক, উদার আকাশ পত্রিকার ও প্রকাশনের সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানান, এই মৈত্রী উৎসবের মধ্য দিয়ে দুই বাংলার পবিত্র ভাব ও ভালবাসা আরও মজবুত হল। আত্মিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হল। গোটা বিশ্বে হানাহানি রুখতে এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই মহতী মৈত্রী উৎসবের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। উদার আকাশ কেবল পত্রিকা নয় সুস্থ সমাজ গড়ার অঙ্গিকার।
এদিন সোস্যাল মিডিয়া নিয়ে মুখ খুললেন কবীর সুমন।
মঙ্গলবার উদার আকাশ পত্রিকা ও প্রকাশনের উদ্যোগে “ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব ২০১৭” সকলের মনে বিশেষ দাগ কাটে। সংবর্ধনা, নৃত্য, সংগীত, আর্ট ক্যাম্প, কবিতা আবৃত্তি ও উদার আকাশ প্রকাশনের গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শিবুকান্ত বর্মন মহাশ্বেতা দেবীর উপর গবেষণা করেছেন সেই গবেষণাটি বই আকারে এদিন প্রকাশ পেল। আইসিসিআর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে “উদার আকাশ” প্রকাশনের সম্পাদক ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে সম্পন্ন হয় ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসব। এদিন প্রখ্যাত সংগীতকার ও সাংবাদিক কবীর সুমনকে উদার আকাশ প্রদান করল “গৌরকিশোর ঘোষ স্মৃতি সম্মাননা ২০১৭” আর বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজকে “উদার আকাশ আজীবন সম্মাননা ২০১৭” প্রদান করা হয়। দুই বাংলার বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজসেবী ও সংস্কৃতিকর্মীকেও এই মিলন ও মৈত্রী উৎসবে “উদার আকাশ ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা ২০১৭” প্রদান করা হয়। বাড়তি পাওনা কবীর সুমনের চাঁছাছোলা কিছু কথা। স্পষ্টবাদী তিনি। নির্ভীক তাঁর কন্ঠ। সেই সুর শুনলো দুই বাংলার অগণিত লোকজন। কানায় কানায় ভর্তি অডিটোরিয়ামে যুক্তিবাদীদের সামনে তিনি কিছু প্রশ্ন তুলে ধরলেন। আজ মুসলিম নামধারী হলেই কেন সে ঘর ভাড়া পায়না? কেন বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল ভারতে চালানো হয় না? বাংলাদেশ যেখানে রোহিংগাদের জায়গা দিতে পেরেছে ভারত কেন সেখানে পিছিয়ে? এমন নানাবিধ প্রশ্ন। এই সূত্রেই তিনি সোচ্চার হলেন সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে। তিনি বললেন, ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া উচিত। রাজবংশীদের পঞ্চাশটা বাড়ি নাকি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সামান্য ফেসবুকে প্রকাশিত কয়েকটি কথায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এটা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এটাকে ব‍্যবহার করে কিছু মানুষ বদমাইশি, পারস্পরিক যন্ত্রণা দিচ্ছে ও অপমান করে চলেছে। এই ফেসবুকের বিড়ম্বনা আরামবাগের বিধ্বংসি ঘটনার সূত্রপাত করেছিল। মাসখানেক লাগাম টানা হয়েছিল ফেসবুক ব্যবহারে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বাংলার মুসলমান সমাজের তরুণ তুর্কী ফারুক আহমেদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতে ভোলেননি। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে সার্থক “ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী ও মিলন উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। দুই বাংলার অগণিত সংস্কৃতি প্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফারুকের সঙ্গে, ফারুকদের পাশে থাকা উচিত বলে এদিন মন্তব্য করেছিলেন কবীর সুমন। তিনি আরও বলেছিলেন এই সম্প্রীতির উৎসব বাংলার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক।

এছাড়াও চেক করুন

সরকারী টাকায় কেনা কীটনাশক, সার, বীজ তছরুপ গোয়ালতোড়ে

কার্তিক গুহ , ঝাড়গ্রাম : সরকারি টাকায় কেনা গোডাউন ভর্তি কীটনাশক, সার, বীজ । অথচ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.