Breaking News
Home >> Breaking News >> ​১২৮ তম শিশুদিবসে একটু অন্যরকম চিত্র পুরো জেলা জুড়ে 

​১২৮ তম শিশুদিবসে একটু অন্যরকম চিত্র পুরো জেলা জুড়ে 

পিয়া গুপ্তা, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, উত্তর দিনাজপুর: স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু  জন্মদিনে 14 ই নভেম্বর আর সেদিনিই শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয় ।জওহরলাল নেহেরুর জন্ম হয়েছিল 1889 সালে 14 ই নভেম্বর এলাহাবাদে। তার পিতা মোতিলাল নেহেরু কাশ্মীরের পণ্ডিত পরিবারের একজন ধনী ব্যক্তি ছিলেন।এছাড়া মোতিলাল নেহেরু দুইবার কংগ্রেস অধিবেশনে অধ্যক্ষ ছিলেন।নেহেরুর মা ছিলেন স্বরূপ রানী থুস্সু

ছোটোবেলা থেকেই ছোট্ট নেহেরু ছোটো ছোটো শিশুসন্তান দের ভীষণ ভালোবাসতেন ।তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর পদে অবতীর্ণ হন সেই সময় থেকেই শিশু শিক্ষা বিস্তার,স্বাস্থ্য ,সার্বিক কল্যাণ সাধন,এবং শিশুদের সার্বিক বিকাশে যথারীতি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।তার স্নেহপরাযণ ও ভালোবাসায  শিশুরাও তাকে  খুব আপন করে নিয়েছিল ।শিশু দের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন তাদের প্রিয় “নেহেরু চাচা”। তাদের এই পারস্পরিক ভালোবাসায় জওহরলাল নেহেরুর জন্মদিনকেই তাই শিশুদিবস হিসেবেও পালন করা হয়  ।কিন্তু শিশু দিবস বর্তমানে নামই রযে গেছে ।প্রতি বছর এই দিনটি সময়ের সাথে আসে আর চলেও যায় ।একটা দিনেই এই শিশুদের কথা মনে করে নানা উত্সব পালিত হয নানান জয়গান ,শিশুদের জন্য  নানান উন্নয়নের বার্তা ও প্রেষণ করা হয় ।কিন্তু দিনের সেই অন্ধকার ও হতশাময জীবনের আবারো সঙ্গী হযে ওঠে তারা।আবারো দরিদ্রের কষাঘাতে তুলে নিতে হয় সংসারের হাল।আজও প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও লালসার শিকার বহু বহু শিশু।আজও প্রতিদিন অবহেলিত শিশুকন্যা ,আজও  ফুটপাত,নর্দমা ,ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয তাদের।আজও কন্যা সন্তান হয়ে জন্মের অপরাধ ভোগে শিশু কন্যারা। আজও শিশুরা শিক্ষা  থেকে বঞ্চিত ।

শিশু শ্রম নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও আজও পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে চলছে শিশুশ্রম ব্যতিক্রম নেই উত্তর দিনাজপুর ও । উত্তর দিনাজপুরে সর্বত্র হোটেল,রেস্তরাঁ ,কিংবা বাডির পরিচারিকা সর্বত্রই নিযুক্ত রয়েছে 14 বছরের কম বয়সি শিশুরা।আইনে প্রণয়নে ও যে জেলাজুডে কোন প্রভাব পড়েনি তা জেলার সামগ্রিক চিত্র দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে।উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ ,রায়গঞ্জ ,ইটাহার,ইসলামপুর সহ বহু জায়গায় আজও দেখা মেলে ছোটো ছোটো শিশু শ্রমিক দের।যে বয়সে হাতে তুলে নেওয়ার কথা বই সেই বয়সে পেটের খিদা মেটাতে ওরা তুলে নিচ্ছে মাটি, জলের জগ,।লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও এরা আজ অসহায় ,স্বপ্ন দেখা তাদের কাছে নিষিদ্ধ ।কেননা অভাবের সংসার যেখানে দুবেলা খাওয়ার জোটা দুষ্কর সেখানে পড়াশুনার খরচ আসবে কোথা থেকে।

হোটেলে টেবিল পরিস্কার করে,ইট ভাটায ইট ভেঙে,বাসনপত্র ধুয়ে দুবেলা খাবার জুটে এদের।বছর দশেকের যুবক কালু নামের পাশাপাশি তার জীবন ও যেন অভাবে অনটনে কালো অন্ধকারের বাসা বাঁধা ।দিন কাটে পথ চলতি মানুষের জুতো সেলাই ও জুতো পরিষ্কার করে ।পথ চলতি মানুষের  জুতো পরিষ্কার করে পাওয়া দুটো পযসা তার মুখে দুটো খাবার তুলে দেয় ।কি বা করবে সে ছোটো বেলায় বাবা ও মা ফেলে রেখে চলে যায় ।এখন দুটো খাবার জোটো এই জুতো সেলাই করে।এমনিই বহু কালু  দেখা যায় পথ চলতে যারা সংসারের হাল ধরতে কেউ বা জুতো কেউ ঝাড়ু তুলে নেয় একটা পযসার আশায।আজও স্টেশন চত্বরে ভীড় দেখা যায় সেই সব অসহায় অবহেলিত ছোটো ছোটো শিশুদের ।যারা দুটো পয়সার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষা করে বেরোয।”বাপু দুটো পযসা দেন ক্ষিদে পেয়েছে ” এমনিই কথা গুলো বেরিয়ে আসে মুখ দিয়ে সেই সব শিশুদের।

হোটেল মালিক গুলিও অবশ্য জানান অভাবের তাড়নায় এইসব অসহায় শিশুরা অবশ্য কাজ করতে আসে হোটেলে।তবে শিশুদের কাজে নিয়োগ বেআইনি ঘোষিত হওয়ার পরেও আইনের ফাঁক গলে এইসব শিশুদের কাজে লাগাচ্ছে কিছু কিছু হোটেল কিংবা কারখানা গুলিতে।

শিশুদের জন্য যদিও আজ বহু আইন পাস হয়েছে তবুও  আজ শিশুরা কোথাও নিরাপদ নেই,আজও শিক্ষা ,স্বাস্থ্য ,খাদ্য ,নিরাপত্তা দানে বহু আইন পাস হয়েছে কিন্তু বদলায়নি শিশুদের ভাগ্য ।আজ 128 তম

জন্মদিবসে দেশের চিত্র প্রায় একই রকম । আজও ঘরে বাহিরে কোথাও শিশুরা সুরক্ষিত নয।আজও শৈশব কাটছে বিপন্নতায় ।

Check Also

শিলিগুড়িতে নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, ব্যাপক চাঞ্চল্য

বিশ্বজিৎ সরকার, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, দার্জিলিংঃ শিলিগুড়িতে স্কুল ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.