Breaking News
Home >> Breaking News >> ​জেলার সাংসদের উদ্যোগে ফের শুরু হচ্ছে রবীন্দ্রভবন সংস্কারের কাজ 

​জেলার সাংসদের উদ্যোগে ফের শুরু হচ্ছে রবীন্দ্রভবন সংস্কারের কাজ 

দক্ষিণ দিনাজপুরঃ মাঝপথে থমকে যাওয়া জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর ও রবীন্দ্রভবনের বাকি অংশ সংস্কারের কাজ অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রের বরাদ্দের উপর ভরসা না করে, কাজ শুরু করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ১ কোটি টাকা জেলা প্রশাসনের কাছে এসে পৌঁছেছে। পুজোর পরেই রবীন্দ্রভবন ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বালুরঘাটের সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। প্রকল্পটি শেষ হলেই গত চার বছরে এলাকার নাট্য সংস্কৃতি চর্চা থেকেশুরু করে জেলা তথ্য সংস্কৃতি কার্যালয় পরিচালনার যে সমস্যা তা দ্রুত মিটবে বলে সাংসদ জানান। জানা গেছে, জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর ও রবীন্দ্রভবনের বাকি অংশ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ১ কোটি টাকা হাতে এসে পৌঁছেছে জেলা প্রশাসনের। এরপরই জেলা প্রশাসন পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে সংস্কারের কাজ শুরু করতে চলেছে বলে জানা গেছে। এই নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছে বালুরঘাটের জেলা প্রশাসনিক ভবনে। সেখানে উপিস্থিত ছিলেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ, জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বীবেদী, সভাধিপতি ললিতা তিগ্যা, পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক সহ অন্যান্য জেলা প্রশাসনের কর্তা। বৈঠকে তুলে ধরা হয় রবীন্দ্রভবন সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প।এই বিষয়ে সাংসদ অর্পিতা ঘোষ জানান, একটা এস্টিমেট চাওয়া হয়েছিল জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর থেকে। ৫কোটি টাকার মতো প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকার এই কাজে ধাপে ধাপে টাকা বরাদ্দ করেছে। যেটাকা এসেছে তা দিয়ে পূর্ত দপ্তরকে দিয়ে কাজটি শুরু করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক মানের মঞ্চ হবে এখানে। সেটাতে কয়েকটি আসন কমতে পারে। তার উদ্যোগে কাজটি আগেই হত। কিন্তু, বন্যার কারণে পুজোর পরেই কাজটি শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কাজটির সম্পূর্ণ অর্থ রাজ্য সরকারের বলে তিনি জানিয়েছেন।অন্য দিকে জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বীবেদী জানান, রবীন্দ্রভবন সংস্কারের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১ কোটি টাকা তাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। সেই দিয়েই রবীন্দ্রভবন ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর সংস্কার করা হবে। বিষয়টি সাংসদ অর্পিতা ঘোষ নিজে দেখছেন বলে জেলাশাসক জানিয়েছেন।প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট রবীন্দ্রভবনটি সংস্কার করে নতুন পরিকাঠামো তৈরীর কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। সংস্কারের মাঝ পথে অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। রবীন্দ্রভাবনে থাকা জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরটি ছিন্নবিচ্ছিন্ন ভাবে চলতে থাকে প্রেক্ষাগৃহে এবং পাশের মেকাপ রুমে স্থানান্তরিত করে। রবীন্দ্রভবনের কাজটি আচমকা থমকে যায় টাকার অভাবে।এরপর টেগোর কালচারাল ডেভলপমেন্ট নামে একটি প্রকল্পের অধীনে কাজটি শুরু হয়। এই প্রকল্পের শর্ত ছিলকাজের ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকার এবং ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম অবস্থায় থাকা ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫৯০ টাকার কাজে মধ্যে রাজ্য ৪০ শতাংশ হারে ১৯ লাখ ৯০ হাজার ২৩৬ টাকা প্রদান করে। সেই টাকাতে একটি বাথরুম, দুটি ঘর এবং সামান্য কিছু প্লাস্টারের কাজ হয়। তবে মোট টাকার ৬০ শতাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও একটিও টাকা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার বলে অভিযোগ।আবার পরবর্তীতে কাজটি বেড়ে মূল এস্টিমেট দাঁড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ২১৪ টাকা। এবার বড় সমস্যাদাঁড়ায় মোট টাকার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একটি টাকাও না দেওয়ায়। কারণ নিয়মানুযায়ী কেন্দ্র টাকা নাদিলে রাজ্য সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ের টাকাটি আর বরাদ্দ করতে পারে না। বার বার চিঠি লিখেও কেন্দ্রীয়সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে টাকার অনুমোদন মেলেনি।এদিকে জেলা পরিষদ ইতিমধ্যে ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৫২ টাকার কাজ করে তা বন্ধ করে দিয়েছিল। জেলা পরিষদেরএজেন্সিকে ১৯ লাখ ৯০ হাজার ২৩৬ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হলেও বাকি ২০ লাখ ২৮ হাজার ৭৪১ টাকা দেওয়া যায়নি আর্থিক সমস্যায়। টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের এই ভূমিকায় সমস্যায় পরে জেলা প্রশাসন। এদিকে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রবীন্দ্রভবন পরিদর্শন করেন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ। তিনি এই কাজের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। তাঁরই উদ্যোগে ফের একবার রবীন্দ্রভবন সংস্কার হতে চলেছে।

Check Also

বোলপুরের মহিদাপুর গ্রামে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক

দেবস্মিতা চ্যাটার্জ্জী, বীরভূম: বোলপুরের মহিদাপুরে মোটর বাইকের ধাক্কায় মৃত্য হল একজনের, আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.