Breaking News
Home >> Breaking News >> আত্মপ্রকাশের আলোকে আলোকিত অন্য মাদল

আত্মপ্রকাশের আলোকে আলোকিত অন্য মাদল

সুপ্রকাশ চৌধুরীঃ  সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত  প্রয়োগ করলেন কিছু অত্যুৎসাহি সাহিত্যাসেবী । তাদের সরব ঘোষণা যতদিন মানুষ চাইবেন ততদিন এই পত্রিকা বেঁচে থাকবে।প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রবীন্দ্র- বঙ্কিম বিশেষজ্ঞ ড. অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য।নব বর্ষের প্রথম মাসের শেষ বৈশাখে সুরের মাতনে মাতিয়ে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন বঙ্গবিভূষন বাউল শিল্পী কার্তিক দাস বাউল।তিনি বীরভূম জেলারই কৃতি সন্তান জ্ঞানপিঠ পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা ‘মধুর মধুর বংশী বাজে কোথা কোন কদমতলীতে’ গানটি গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।এখানে তিনি যে সুরটি বেঁধে দেন সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে সেই ধারা বজায় ছিল।সভার সঞ্চালিকা অপরাজিতা কোনার তাঁর সুরেলা কন্ঠে সভাটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেন।তার সঞ্চালনার প্রশংসা করেন সভায় উপস্থিত বিশিষ্ট জনেরা।

       বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ কওসর জামাল,অংশুমান কর,স্বপন কুমার ঘোষ,দ্বীপতেশ রায়চৌধুরী,সরফরাজ শেখ প্রমুখ।তাদের বরণ করে নেন পত্রিকার পক্ষ থেকে লক্ষী,মামন এবং অপরাজিতা।এই কাজে সহায়তা করেন কবি প্রবীর দাস।পত্রিকার আবরণ উন্মোচন করেন সমগ্র অনুষ্ঠানের সভাপতি ড. অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য।

     বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্যে সৈয়দ কওসর জামাল বলেন এই সুন্দর পত্রিকার আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্বিত।একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্য দিয়ে পত্রিকাটির পথ চলা শুরু হল। রার বঙ্গের জেলাগুলিতে যে সাহিত্যচর্চা হয় তার প্রকাশ এই পত্রিকায় ঘটবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কলকাতা কেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চা থেকে মুক্ত হবার এ এক অন্যন্য প্রয়াস।

    এরপর অন্য মাদল পত্রিকার সভাপতি ,বিশিষ্ট লোক গবেষক ,কবি এবং সাহিত্যিক ড. আদিত্য মুখোপাধ্যায়ের লেখা ভাবনা গানটি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট বাউল সংগীত শিল্পী লক্ষণ দাস বাউল।পরিপূর্ণ সভাগৃহে মন্ত্রমুগ্ধের মত সকলেই গানটি উপভোগ করেন।শান্তিনিকেতনের রীতি অতিক্রম করে হাততালিতে ফেটে পড়ে শান্তিদেব কক্ষ ।

     পত্রিকা সভাপতির ভাষণে ড. আদিত্য মুখোপাধ্যায় বলেন ,যারা ভালোবেসে এই সভায় এসেছেন তাদের প্রত্যেককে শুভেচ্ছা,ভালোবাসা এবং অভিনন্দন।পত্রিকা ততদিন বাঁচবে যতদিন পাঠক চাইবে।তার বাইরে একদিনের জন্যও পত্রিকা থাকবে না।পত্রিকা সম্পাদক শেখ সাহাবুদ্দিন ওরফে সোহেলের শিক্ষা সম্পর্কিত নানান কর্মকান্ডের কথা তিনি তুলে ধরেন।তার সাহারা একাডেমি এবং অন্য মাদল পত্রিকা সমাজের বুকে মানুষের গৌরব গাঁথা তুলে ধরতে চায়।14 মে 2017 বাংলা ৩০ বৈশাখ রবিবার মাতৃভাষা দিবস।সাহারা সোহেলের মায়ের নাম।এর অন্য অর্থ আশ্রয়।মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই সে সাহারা একাডেমি ও অন্য মাদল পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেছে।

    পত্রিকা সম্পাদক শেখ সাহাবুদ্দিন বলেন একজন প্রান্তিক গ্রামের নিরক্ষর মা-বাবার সন্তান হিসাবে তাকে যে অপমান,লাঞ্ছনা, অসম্মান ও অবজ্ঞা সহ্য করতে হয়েছে , সেখান থেকেই তার মনে জেদ চাপে যে,সে একদিন সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবার কাজে ব্রতী হবে।সেই চেষ্টাই তাকে একাডেমি গড়ে তোলা বা পত্রিকা প্রকাশের কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।যুগ্ম সম্পাদক রাধামাধব মন্ডল বললেন সাহারার অন্য মাদল পত্রিকা প্রান্তিক মানুষের আশ্রয় হয়ে উঠুক !

 অর্পিতা সরকার রবীন্দ্রসংগীত “প্রাণ ভরিয়ে দিশা হরিয়ে ” গানে নৃত্য পরিবেশন করেন।বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত কবি অংশুমান কর সভাপতি ও উপস্থিত দর্শকদের সম্বোধন করে বলেন এই পত্রিকার জন্ম কাহিনী শুনে তিনি শিহরিত।জন্মের দিনেই কেউ মৃত্যুর কথা ঘোষণা করতে পারে এমন কথা তার জানা ছিল না।তবু প্রশ্ন আয়ু কতদিন ? সভার সভাপতি একটি তালিকা প্রস্তুত করছিলেন আজ পর্যন্ত কতগুলি বাংলা সাহিত্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং বন্ধ হয়েছে।আমরা চাইছি এই পত্রিকা বহুদিন চলুক !এই অঞ্চলের খবর ও সাহিত্য এই পত্রিকায় বেশি বেশি করে স্থান পাক!লে আউট এবং ইলাস্ট্রেশনে আরো পেশাদারিত্ব আনতে হবে।প্রচার পরিকল্পনায় নজর দিতে হবে। গোষ্ঠীকেন্দ্রিক মৌলবাদ থেকে পত্রিকাটিকে স্বতন্ত্র রাখতে হবে। অপর বিশেষ অতিথি স্বপন কুমার ঘোষ উপস্থিত সকলকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন মাস দুয়েক আগে পত্রিকার সভাপতি , সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক তার কাছে এসে পত্রিকার প্রকাশের কথা বলেন।তিনি এই পত্রিকার সাফল্য চান।

     বোলপুরের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিমাদ্রী মন্ডল এরপর “মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না” গানটি পরিবেশন করে সবার গুরুগম্ভীর পরিবেশে একটু খানি সুরের আবহ আনেন।

অপর বিশিষ্টঅতিথি রবীন্দ্র সান্নিধ্য প্রাপ্ত শান্তিনিকেতন নিবাসী দ্বীপতেশ রায়চৌধুরী।তাঁর পিতা সুধাকর রায়চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আপ্ত সহায়ক।তাকে রবি বলে ডাকা হত।কিন্তু রবীন্দ্রনাথ একবার শিশুটির নাম জিজ্ঞাসা করায় তিনি তার নাম রবি বলেছিলেন ।এক আকাশে দুটি রবি কি ভাবে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।পরে তার পিতৃদেবকে ডেকে শিশুর নাম দেন দ্বীপেশ ।সেই নাম বদলে হয়ে যায় দ্বীপতেশ।স্মৃতিচারণে দর্ষককুল মুগধ হয়ে পড়ে। এরপর বক্তব্য রাখেন অপর বিশিষ্ট অতিথি গল্পকার সুকুমার রুজ।বৈশাখ শেষে রাঙা মাটির দেশে এসে তিনি অভিভূত ।তিনি বলেন বিশিষ্টদের লেখার থেকে বেশি করে প্রান্তিক সাহিত্যিকদের লেখা ছাপতে।

      এসময় আবার একটি নৃত্য পরিবেশন করা হয় খুদে শিল্পী সোমাশ্রী দত্তকে দিয়ে।এই খুদে শিল্পী ইতিমধ্যেই বিখ্যাত ।এসো হে বৈশাখ,এসো এসো ! এই গানটির সাথে নৃত্য পরিবেশন করে তিনি দর্শকদের মন মাতিয়ে দেন।

 সভাপতি ড. অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য তার ভাষণে বলেন একটি পত্রিকার জন্ম মানে পাঠক ও লেখকদের কাছে একটি সন্তান জন্মানোর মত আনন্দের বিষয়।তাদের স্বপ্ন,ভালোবাসা ও আনন্দের সাথে সাহিত্য পত্রিকার জন্ম জড়িয়ে থাকে।সম্পাদকীয়তে লেখা “বহুকাল বেঁচে তীব্র বাসনা নেই তার।” এই কথাটা প্রতিবাদ করেন।সম্পাদক বারবার তার পিতামাতার কথা উল্লেখ করেছেন।তিনি সাহারার অন্য মাদল পত্রিকার সম্পাদক।তিনি যেদিন জন্মেছিলেন সেদিন তার পিতা মাতা শতায়ু কামনা করেছিলেন।তাহলে এই পত্রিকার আত্মপ্রকাশের দিন কেন এমন কথা উচ্চারিত হবে?একটি পত্রিকার জন্ম একজন লেখকের কাছে অনেক পাওয়া।প্রত্যেক নতুন পত্রিকা লেখকদের নতুন করে লিখতে শেখায়।শান্তিনিকেতন থেকে এরকম একটি সেমি কমার্শিয়াল পত্রিকা এই প্রথম প্রকাশিত হল।

  তৃতীয় পর্বে কবিতা পাঠ করেন ১৪ জন কবি।এরা হলেন কবি প্রবীর দাস,রামানুজ মুখোপাধ্যায়,সুপ্রভাত মুখোপাধ্যায়,দেবাশিস কোনার,গৌতম দে,চন্দন চক্রবর্তী,সুব্রত মাঝি,ফাল্গুনী ভট্টাচার্য, প্রমুখ।

Check Also

বোলপুরের মহিদাপুর গ্রামে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক

দেবস্মিতা চ্যাটার্জ্জী, বীরভূম: বোলপুরের মহিদাপুরে মোটর বাইকের ধাক্কায় মৃত্য হল একজনের, আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.