Breaking News
Home >> Breaking News >> এটিএম কার্ড ছাড়াই এটিএম মেশিন থেকে টাকা গায়েব করার এক চক্র ধরা পড়ল ব্যারাকপুর পুলিশের হাতে

এটিএম কার্ড ছাড়াই এটিএম মেশিন থেকে টাকা গায়েব করার এক চক্র ধরা পড়ল ব্যারাকপুর পুলিশের হাতে


সৈকত গাঙ্গুলী,ব্যারাকপুর: সত্যি ভাবতেও অবাক লাগে, আমরা কতটা উন্নত টেকনোলজির একটা যুগে বাস করছি। এতদিন আপনারা শুনেছেন, যে এটিএমের পিন নাম্বার হাতিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা গায়েব করে দিচ্ছে এটিএম হ্যাকাররা। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব একটা এটিএম মেশিন থেকে কোনো কার্ড ছাড়া শুধুমাত্র ম্যালওয়ার সফটওয়্যার ব্যবহার করে, মেশিন টাকে না ভেঙে যেভাবে এটিএম কার্ড ঢোকালে ক্যাসেট থেকে টাকা বেরোয়, ঠিক সেভাবেই কার্ড ছাড়াই ক্যাসেট থেকে টাকা বের করে নেওয়ার এক চক্রের ঘটনা।

ঘটনাটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের, উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত নোয়াপাড়া থানা এলাকায় একটা এটিএম থেকে ২৫ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার একটা অভিযোগ জমা পরে নোয়াপাড়া থানায়।

কিন্তু কোনোভাবেই তদন্তকারীরা এটা বুঝে পাচ্ছিলেন না, কারুর একাউন্ট থেকে টাকা না বের করে কি করে এটিএমের ভল্ট থেকে এতগুলো টাকা গায়েব হয়ে গেল। তদন্তকারীদের প্রথম সন্দেহ যায় এটিএম এর সাথে যুক্ত কর্মীদের উপর, কিন্তু তদন্ত করে দেখা যায়, তারা কেউই এর সাথে জড়িত নয়। এবং বেশ কিছু দিন পরে অভিযোগ জমা পড়াতে এটিএমের হার্ডডিস্ক পর্যন্ত ফরম্যাট হয়ে যাওয়ায় কোনো রকম সূত্র তদন্তকারীরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

যাইহোক এই ভাবে চলতি বছরের মে মাসে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন তদন্তকারীদেরও সেই একই সমস্যায় পড়তে হল, কোনো সূত্র ছাড়া এটিএম থেকে ২৫ লক্ষ টাকা গায়েবের কিনারা করতে হবে। তবুও দুঁদে গোয়েন্দারা তাদের আশা ছাড়েননি, তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করলেন, ঠিক একই কায়দায় আর কোথাও এটিএম থেকে টাকা গায়েবের কোনো অভিযোগ জমা পড়েছে কিনা। যেমন খোঁজা তেমন কাজ, খুঁজতে খুঁজতে খোঁজ মিলল উড়িষ্যাতেও কোনো এক জায়গায় এই একই ভাবে এটিএম থেকে টাকা গায়েব করা হয়েছে। সাথে সাথে যোগাযোগ করা হয় উড়িষ্যা পুলিশের সাথে, সেখান থেকে সেই এটিএমের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়, সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, ল্যাপটপের সাহায্যে এটিএম থেকে টাকা বের করে নিচ্ছেন। এইবার এই লোকের খোঁজে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ শুরু করলেন গোয়েন্দারা। খুঁজতে খুঁজতে গত সপ্তাহে আমির আলী(৩২) নামে এক ব্যক্তিকে বিহারের পাটনা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দারা। এবং তাকে প্রাথমিক ভাবে জেরা করে যে তথ্য গোয়েন্দাদের সামনে উঠে এসেছে,তাতে তো তাদের চক্ষু চড়কগাছ।

আমির আলী জেরায় স্বীকার করেছে, সে কি ভাবে সফটওয়্যার ব্যবহার করে, এটিএম মেশিনকে কিছু সময়ের জন্য অফলাইন করে দিয়ে, পুরো এটিএমটিকে নিজের কন্ট্রোলে করে নিয়ে এটিএমের ভল্ট থেকে টাকা ক্যাসেট দিয়ে বের করে আনতেন। আমির আরও বলেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ওই একই দিনে নোয়াপাড়ার এটিএম থেকে ২৫ লক্ষ টাকা ছাড়াও, জগদ্দল থানা এলাকার একটি এটিএম থেকেও ১৫ লক্ষ টাকা একই কায়দায় বের করেছিলেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো সেই এটিএম টা অনেকদিন ধরেই ব্রেক ডাউন হয়ে পড়ে আছে, অথচ কেউ ওই এটিএম টা র বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। তবে আমিরের মুখ থেকে এই স্বীকারোক্তি শোনার পরে পুলিশ গিয়ে জগদ্দল থানা এলাকার ওই এটিএম থেকে এটিএমের হার্ডডিস্ক পরীক্ষা করে দেখে, আমির যা বলেছে, তা পুরোপুরি মিলে যাচ্ছে। 

এখন গোয়েন্দারা আদতে শিলিগুড়ির বাসিন্দা বি কম পাস এই আমির আলীর সাথে আর কে কে যুক্ত সেই ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া শুরু করেছে। এবং আর কোন কোন জায়গায় সে এভাবে এটিএম থেকে টাকা গায়েব করেছে, সেই বিষয়টাও জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখছে। সমস্ত ব্যাপারটাই আজ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা প্রধান অজয় ঠাকুর সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেছেন।

Check Also

উত্তর ২৪ পরগণা থেকে নদিয়ায় পৌঁছল বিজেপির প্রতিরোধ সংকল্প অভিযান

দীপঙ্কর ভৌমিক,বারাসাত: উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে দিয়ে সুষ্ঠভাবে বেরিয়ে গেল বিজেপির প্রতিরোধ সংকল্প অভিযান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.