Breaking News
Home >> Breaking News >> ​প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রূকুটি কাটিয়ে এখন চরম ব্যাস্ততা   কুমোর পাড়ায়

​প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রূকুটি কাটিয়ে এখন চরম ব্যাস্ততা   কুমোর পাড়ায়

 
এখন চরম ব্যাস্ততা কুমোর পাড়ায় । প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভ্রুকুটি কাটতেই এখন তাদের নাওয়া খাওয়ার সময় নেই । সেই রাত্রি তে উঠে বসে পড়েন হলাল চক্রের সামনে । চলে সকাল পর্যন্ত চাকা ঘুরিয়ে হাতের কেরামতিতে  মাটির হাঁড়ি , কলসি থেকে শুরু করে প্রদীপ , সরা , খুরি বিভিন্ন জিনিস তৈরী করা । সকাল হওয়ার সাথে সাথে সেই মাটির তৈরী কাঁচা জিনিস গুলো রোদ্রে শুকনো করা । তারপর আবার পুয়ানে পুড়িয়ে সেইগুলিকে ব্যাবহারের উপযোগী করে বাজার জাত করা । দীপাবলীর আগে এমনিতেই একটু চাপ থাকে কুমোর পাড়ায় । তার উপর আবার সেই চাপ এবার বাড়িয়ে দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ । দুর্গাপূজার আগের থেকেই চলছে এই দুর্যোগ । হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি চলে আসার ফলে হাতে গড়া কাঁচা মাটির জিনিস অনেক নষ্ট হয়ে যায় । ফলে সমস্যা সৃষ্টি হয় । গোয়ালতোড়ের কিয়ামাচা , শালবনীর পোড়াডিহা প্রভৃতি গ্রামের কুমোর পাড়ায় তাই চলছে এখন চরম ব্যাস্ততা । বছর ষাটেকের সুধীর পাল বলেন , “আমাদের এই কাজে বাড়ির প্রতিটি সদস্যেরই প্রয়োজন হয় । কেউ মাটি মাখে , কেউ বা চাকা ঘুরাই , কেউ বা আবার তৈরী করা জিনিস গুলো সরিয়ে সরিয়ে সাজিয়ে রাখে । একটা হাঁড়ি ব্যাবহার যোগ্য করে তোলার জন্য চার বার একটা হাঁড়ির পিছনে খাটতে হয় । তবেই সেটি ব্যাবহার যোগ্য হয়ে উঠে । ” রেবতি পাল নামে এক গৃহবধু বলেন আমার বাড়ির সদস্য সংখ্যা কম । অনেক কষ্টে রাত জেগে মাটির জিনিস তৈরী করে সকালে রোদ্রে শুকনো হতে দেওয়ার পর হঠাৎ বৃষ্টি চলে আসায় সেই গুলি নষ্ট হয়ে যায় । ফলে আবার নতুন করে তৈরী করতে হয় । এই সমস্যা একদিনের নয় । দীপাবলীর আগে তো মাঝে মাঝেই হয়েছে । ফলে খুব সমস্যায় পড়েছি “। সুধীর বাবু বলেন , ” এমনিতেই এখন আর মাটির জিনিসের কদর নেই । তার উপর এইভাবে প্রকৃতিও যদি আমাদের উপর সদয় না হয় তা হলে তো সংসার চালানো দায় । ” তিনি আরঅই জানান আগে গোয়ালতোড়ের হাটি প্রতি শনিবার যেখানে এক থেকে দেড় হাজার মাটির জিনিস বিক্রি করতেন এখন দেড়শো দুশো টি বিক্রিও হয় না । তার তিন ছেলের দুজন এই কাজে থাকলেোই ছোট ছেলে এই কাজের সংগে যুক্ত নন । তাদদের বক্তব্য পোড়াডিহা গ্রামে ৩০ -৪০ টি ঘর কুমোর থাকলেও এখন মাত্র ১০ -১২ টি বাড়ি এই কাজের সঙ্গে যুক্ত । কারন এমনিতেই আর কদর নেই তার উপর যেই সময় মাটির জিনিসের চাহিদা সেই সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে । ফলে রোজগার সেই মতো হয় না  । কল্পনা পাল জানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে আকাশ মেঘলা ও বৃষ্টি হওয়ার দরুন আমরা ঠিক ঠাক কাজেই করে উঠতে পারি নি । মা কালী এখন সদয় হয়েছেন । তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেটে গিয়েছে । তখন আমাদের চরম ব্যাস্ততা । তৈরী করা , শুকনো করা , পুড়ানো তারপর আবার বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া । মাঝে আবার মাটি এনে রাখা যাতে আগামি কাল আবার জিনিস তৈরী করতে পারি ।

Check Also

বোলপুরের মহিদাপুর গ্রামে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক

দেবস্মিতা চ্যাটার্জ্জী, বীরভূম: বোলপুরের মহিদাপুরে মোটর বাইকের ধাক্কায় মৃত্য হল একজনের, আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.